খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনে নিয়মিত টহলের সময় গাঁজা পাওয়ার অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার ও জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সাথে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন-কাজী রিয়াজুস ছলেহীন, এস এম তৌফিক আলম ও মো. মুশফিক উল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন স্বাক্ষরিত ৩০ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৬(খ) ও ২৪ ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ছাত্রবিষয়ক পরিচালক দপ্তরের নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলাকালে ৪ নম্বর একাডেমিক ভবন থেকে ওই তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে গাঁজা পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক দপ্তর।
তবে ঘটনাটিকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ জন্য সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এহসান মজিদ মোস্তফাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, নিয়মিত টহল কার্যক্রমের সময় তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে তাদের সাথে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরে শৃঙ্খলা কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
অর্থাৎ, আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার ও আর্থিক জরিমানার মুখে পড়লেও তদন্ত প্রতিবেদনেই নির্ধারণ হবে ঘটনার প্রকৃত চিত্র কী ছিল এবং পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কী হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাঙ্গনে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ নতুন করে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। একই সাথে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনে ওই তিন শিক্ষার্থীর কাছে ঠিক কত পরিমাণ গাঁজা পাওয়া গিয়েছিল, সেটি কার কাছ থেকে বা কোথা থেকে এসেছে এবং তিন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।


