কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে ড্রেন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ড্রেন বন্ধ হয়ে ময়লা পানি উপচে হলের মূল ফটকের সামনের সড়কে জমছে। এতে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবের পাশাপাশি চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিজয়-২৪ হলের পানি একই ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। ড্রেনটির মূল ফটক নজরুল হলের প্রধান প্রবেশপথের পাশে। তবে ড্রেনটি নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ময়লা ও পানি জমে নিষ্কাশনব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। একপর্যায়ে পানি উপচে হলের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে চলে আসে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন ও পাশের খাল নিয়মিত পরিষ্কার বা সংস্কার করা হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেও ময়লা পানি উপচে হলের প্রবেশপথে জমে যায়। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে হলের ডাইনিং ও প্রধান ফটকের আশপাশে থাকা এবং চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
নজরুল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন রাফাত বলেন, ‘ড্রেন সমস্যার কারণে হলে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। দুর্গন্ধের পরিমাণও এত বেশি যে ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় সমস্যায় পড়তে হয়।’
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নজরুল হলের ড্রেন ও পাশের খাল পরিষ্কার বা সংস্কার করা হচ্ছে না। পলি ও বর্জ্যে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় দুই হলের পানি ঠিকমতো নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে ড্রেন উপচে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি হলের মূল গেটের সামনে জমে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন বাধ্য হয়ে এসব নোংরা পানির ওপর দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার হল প্রভোস্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিকার চেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বা স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ড্রেন ও পাশের খাল পরিষ্কার-সংস্কার করে স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং হলের প্রবেশপথ চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে নজরুল হলের প্রভোস্ট ও হল কমিটির প্রধান মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘বিজয়-২৪ হলের পানি মোটর ও পাইপের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করছি। এতে শিক্ষার্থীদের বর্তমান সমস্যার একটি সাময়িক সমাধান হবে।’
স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়কে ড্রেন তৈরি করতে হবে। এ জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ড্রেন তৈরি করে না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরাও অবগত। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের পরিবেশে থাকতে হয়, এটি তাদের জন্য খুবই কষ্টকর। এ বিষয়ে আমরা সিটি করপোরেশনের সাথে প্রাথমিকভাবে কথা বলেছি। তারা হলের পাশের রাস্তা দিয়ে একটি ড্রেন করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাময়িকভাবে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, তা দেখতে আগামী সপ্তাহে আমি নিজে গিয়ে পরিস্থিতি দেখব। শিক্ষার্থীদের যাতে এভাবে কষ্ট করতে না হয়, সে জন্য সাময়িক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’


