কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে মিলছে না কোনো ডিজিটাল সেবা। স্মার্ট আইডি কার্ড চালু না থাকায় লাইব্রেরি, পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে আলাদা কার্ড। এমনকি আইডি কার্ডের পেছনে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেও আসে না শিক্ষার্থীদের কোনো তথ্য। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও অ্যানালগ আইডি কার্ড ব্যবস্থায় আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আইডি কার্ড পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কার্ডের সামনের অংশে শিক্ষার্থীর ছবি, নাম, আইডি নম্বর, রোল নম্বর, শিক্ষাবর্ষ, বিভাগের নাম, রক্তের গ্রুপ ও হলের নাম উল্লেখ রয়েছে। কার্ডের পেছনে রয়েছে একটি কিউআর কোড। তবে কোডটি স্ক্যান করলে কোনো তথ্য প্রদর্শিত হয় না। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ডে থাকা শিক্ষার্থীর পরিচয় ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না।
এ ছাড়া বর্তমান আইডি কার্ড দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সেবা নেওয়া যায় না। লাইব্রেরি ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কাগজের তৈরি লাইব্রেরি কার্ড সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল থেকেও জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং বাসের সিট দখল ঠেকাতে পরিবহন কার্ড চালু করা হবে। এতে একই শিক্ষার্থীর জন্য আইডি কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড ও পরিবহন কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড শুধু পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া যথেষ্ট নয়। একটি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি লাইব্রেরি, মেডিকেল, পরিবহন ও অনলাইন পেমেন্টসহ বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। অথচ কুবিতে এসব সেবার জন্য পৃথক ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
আইডি কার্ডের ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল আলম বিজয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া আইডি কার্ডটি আমাদের তেমন কোনো কাজে আসে না। যেসব শিক্ষার্থী বাইরে টিউশনি করেন, তাদের ক্ষেত্রে টিউশনি পাওয়ার পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার ছাড়া এই কার্ডের কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। অথচ বর্তমান সময়ে একটি কার্ডের মাধ্যমেই লাইব্রেরি, মেডিকেল সেবা, অনলাইন পেমেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান আইডি কার্ডকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করে একটি কার্ডের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, আমরা দায়িত্বে এসেছি কিছুদিন হলো। এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড স্ক্যান করলে তার সব তথ্য আসতে হবে। আমি এ বিষয়ে হল প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব।
তিনি আরও বলেন, এখন লাইব্রেরির জন্য আলাদা কার্ড এবং পরিবহনের জন্যও আলাদা কার্ড দেওয়ার কথা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি জমা দিতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এসব সেবা যাতে একটি কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পায়, সে বিষয়টিও দেখব।


