কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অপরাধের ধরন, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক সেবন ও সংরক্ষণের অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিষয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের সিয়াম (১৮) ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সানি (২৭)-কে মদ ও বোতলসহ আটক করা হয়। তাদের বিষয়ে মোবাইল কোর্টে শুনানি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আটক সানি জানান, তাদের মোটরসাইকেলটি রাস্তায় ছিল। কে বা কারা এটি রেখে গেছেন, তারা জানেন না। মাদকের সাথে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে ইউএনও মহোদয় তাদের সাধারণ ক্ষমা করেছেন।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়া (৫০) ও তার স্ত্রী বকুলা বেগমকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের ঘর থেকে ১১টি ইয়াবা বড়ি ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইসমাইল মিয়াকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তার স্ত্রী বকুলা বেগমকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বকুলা বেগম জানান, তার স্বামী মাদকাসক্ত এবং মাদকের সাথে জড়িত। বারবার তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হলেও তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে তার সংসারে অশান্তি। তিনি বলেন, তার স্বামীর করা অপরাধের শাস্তি তিনি পেতে পারেন না। এই দিক বিবেচনা করে ইউএনও মহোদয় তাকে সাধারণ ক্ষমা করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু সংবাদে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে মোবাইল কোর্টে প্রত্যেক অভিযুক্তের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আদেশ, মামলার নথি ও প্রযোজ্য আইনের বিধান পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, অপরাধ স্বীকার, সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এবং আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ফলে একই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বলেই তা আইনবহির্ভূত এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনি ভিত্তি যাচাই করা জরুরি।
অভিযানে আটক অপর চারজনকে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, মোবাইল কোর্টে ইসমাইল মিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সানি, আশিক ও বকুলার মাদকের সাথে পূর্বের কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।


