দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জগতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেতা ইউ ইয়ন সুক ও গায়ক-অভিনেতা চা ইউন উ-দুজনেই জড়িয়েছেন কর সংক্রান্ত বিরোধে।
সরকার নির্ধারিত বড় অঙ্কের কর তারা আগেই মিটিয়ে দিয়েছেন, তবে আইনি লড়াই এখনও চলমান।
তাদের ভাষ্য, বিষয়টি কর ফাঁকি নয়, বরং কর আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ।
দেশটির জাতীয় কর কর্তৃপক্ষ (ন্যাশনাল ট্যাক্স সার্ভিস) সম্প্রতি তারকাদের নিজস্ব একক-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা ‘ওয়ান-পার্সন এজেন্সি’গুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অনেক তারকা ব্যক্তিগত আয়কে কোম্পানির আয় হিসেবে দেখিয়ে কম হারে কর দেওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন।
‘হসপিটাল প্লেলিস্ট’ ও ‘হোয়েন দ্য ফোন রিংস’-খ্যাত অভিনেতা ইউ ইয়ন সুক ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত নিজস্ব সংস্থা ফরএভার এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে আয় পরিচালনা করে আসছিলেন। কর কর্তৃপক্ষের তদন্তে উঠে আসে, তার কিছু আয় প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিগত পর্যায়ে করযোগ্য ছিল।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭০০ কোটি ওন কর ধার্য করা হলেও, পুনর্মূল্যায়নের পর তা নেমে আসে ৩০০ কোটি ওনে। তিনি নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করলেও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
তবে গত বুধবার (৫ আগস্ট) ট্যাক্স ট্রাইব্যুনাল তার আপিল প্রত্যাখ্যান করে, ফলে এখন প্রশাসনিক আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে বর্তমানে সামরিক দায়িত্ব পালন করছেন চা ইউন উ। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ওন কর ধার্য করা হয়েছিল, যা তিনি ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছেন।
তবে তার দাবি, কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে ট্যাক্স ট্রাইব্যুনালের পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল-এই সময়ের মধ্যে তারকাদের কর-সংক্রান্ত অনিয়মের পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা রোধে একক মালিকানাধীন তারকা-প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

