...|...|...

সারাদেশ

এলপিজি সংকটে নাভিশ্বাস, বাড়তি দামেও মিলছে না বোতল

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৩০ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৯
Shares
এলপিজি সংকটে নাভিশ্বাস, বাড়তি দামেও মিলছে না বোতল

ফাইল ছবি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে হঠাৎ করেই তীব্র হয়ে উঠেছে এলপিজি গ্যাসের সংকট। বাজারে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এতে রান্নার জ্বালানি নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে জীবননগর পৌর বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনের সময় গ্যাস কিনতে এসে অনেকেই একাধিক দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার কোনো কোনো দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জীবননগরের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলপিজি গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। ইতোমধ্যে অনেকে বিকল্প হিসেবে কাঠ, খড়ি ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার শুরু করেছেন। এতে একদিকে রান্নার খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত বাজারে এলপিজির সরবরাহ বাড়িয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। একইসাথে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় ক্রেতা আকিমুল ইসলাম বলেন, রান্নার জন্য গ্যাস নিতে এসে কয়েকটি দোকানে ঘুরেছি। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও ২ হাজার টাকার বেশি চাওয়া হচ্ছে। পরিবারের রান্নাবান্না চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অল্প আয়ে গ্যাস সংকট চরম হওয়ায় পরিজন নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের মইনুল বলেন, গ্যাসের সংকট আগে কখনো এভাবে দেখিনি। বেশি দাম দিতে রাজি থাকলেও অনেক সময় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করা দরকার। ছোট বাচ্চা নিয়ে না হলে পরিবারের রান্না করতে চরম ভোগান্তি পড়তে হবে।

স্থানীয় এক এলপিজি ব্যবসায়ী বলেন, আমরাও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছি না। সরবরাহ কম থাকায় দোকানে সিলিন্ডার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকটও কেটে যাবে।

এদিকে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানান, এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।