রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যা-তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। একইসাথে গাজী নজরুল ইসলামের গ্রেফতারের দাবিতে জামায়াত-শিবির মাঠে নামবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে? আশা করি তদন্তে সব বের হয়ে আসবে। কিন্তু এই জামায়াত নেতার গ্রেফতারের দাবিতে কি জামায়াত-শিবির মাঠে নামবে? এনসিপির নেতারা কি রাজপথে নেমে স্লোগান দিবে, হৈ হৈ রৈ রৈ জামায়াত- শিবির গেলি কই? নাকি জামায়াত নেতার এই অপকর্মের দায় নিয়ে জামায়াত-শিবির ও এনসিপি চুপ থাকবে?
তিনি আরও লিখেন, দেখেন, গাজী নজরুল ইসলামের সাবেক ড্রাইভার মেয়েটির আপন মামা। হয়তো ছোট্ট ভাগনির সাথে এমপির এমন সম্পর্ক মামা মেনে নিতে পারেনি! তবে মেয়েটির মা-বাবা এমন ন্যক্কারজনক কাজের সাপোর্ট করে অপরাধ করেছে। আমি মনে করি, জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ মেয়েটির বাবা-মায়ের অতি লোভেরও শাস্তি হওয়া উচিত। জামায়াত-শিবির, এনসিপির দিকে পুরো জাতি তাকিয়ে আছে, কখন তারা হত্যার প্রতিবাদে লংমার্চের আহ্বান করে।
এদিকে রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন দল আলামত সংগ্রহ করেছে এবং থানা-পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সাথে মরিয়ম খাতুনের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলামের কিছু সমর্থক এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালান। পরে কয়েকটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নয় বলে দাবি করে।
এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই সম্প্রতি তাকে বিয়ে করেছেন। পরে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয়।


