...|...|...

বিনোদন

এক মিনিটেই দুই ট্রেনের টিকিট শেষ, ক্ষোভ প্রকাশ আশফাক নিপুনের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৪৮
Shares
এক মিনিটেই দুই ট্রেনের টিকিট শেষ, ক্ষোভ প্রকাশ আশফাক নিপুনের

আশফাক নিপুনের দাবি, সকাল ৮টা ১ মিনিটে দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের সমস্ত টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার আশফাক নিপুন। যোগাযোগমাধ্যমে তিনি টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত জটিলতা এবং তথাকথিত ‘সিন্ডিকেটের’ ভূমিকা নিয়ে সামাজিক প্রশ্ন তুলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্ধারিত সময় সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর কীভাবে মাত্র এক মিনিটে দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যায়।

ট্রেনের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছাড়ার কিছু সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যাত্রার ১০ দিন আগে টিকিট ছাড়ার সময় অনলাইনে প্রবেশ করেও অনেক সময় টিকিট পাওয়া যায় না। এ নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমলি-১১ মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য ১ অক্টোবর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন আশফাক নিপুন।

তিনি জানান, তার সেজো মামা, মামী ও মামাতো বোন পূজার ছুটিতে কক্সবাজার ঘুরতে যেতে চেয়েছিলেন। বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে তার মামার পক্ষে বাসে দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা একটানা বসে যাওয়া সম্ভব নয়। তাকে হাঁটাহাঁটি করতে হয় এবং শুয়েও থাকতে হয়। তাই বাসের পরিবর্তে ট্রেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ জন্য যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় ‘ঢাকা টু কক্সবাজার’ ট্রেনের টিকিট ছাড়ার সময় অনলাইনে তিনটি টিকিট কাটার দায়িত্ব নেন নিপুন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, সেই অনুযায়ী সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকেই মোবাইল নিয়ে বসেছিলেন তিনি। টিকিট কাটার সময় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি বলে মোবাইলের অন্য সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন। এমনকি সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে আবার লগইন করেন, যাতে টিকিট কাটার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে না যান।

নিপুনের ভাষ্য, অনলাইনে নিয়মিত টিকিট কাটেন এমন মানুষ জানেন এ ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। সকাল ৮টা বাজতেই তিনি ‘সার্চ ট্রেন’ অপশনে চাপ দেন। এরপরই তার সামনে আসে ট্রেনের সিট প্ল্যান। তিনি লিখেছেন, মনে হচ্ছিল যেন আলাদিনের জাদুর চেরাগ ঘষতেই গুহার দরজা খুলে গেছে। সারি সারি সিট দেখে তিনি টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু মাত্র এক মিনিট পরই ঘটে হতাশ হওয়ার মতো ঘটনা।
নিপুনের দাবি, সকাল ৮টা ১ মিনিটে দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি টিকিট নির্বাচন করার পর সেটি কনফার্ম করা, এসএমএসে আসা ওটিপি দেওয়া, বিকাশ বা কার্ডের তথ্য দেওয়া, আবার এসএমএস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য টাইপ করা এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে টিকিট পুনরায় নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়ায় তার হিসাব অনুযায়ী কমপক্ষে সাড়ে ছয় থেকে সাত মিনিট সময় লাগে।

তাহলে সকাল ৮টায় যদি সবাই একই সময়ে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং প্রত্যেকের ইন্টারনেট সংযোগও দ্রুতগতির হয়, তাহলেও সব টিকিট বিক্রি হতে অন্তত ৮টা ৭ মিনিট সময় লাগার কথা বলে মনে করেন তিনি। সেখানে সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে ৮টা ১ মিনিটের মধ্যেই দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়াকে তিনি ‘অসম্ভব’ বলে প্রশ্ন তুলেছেন—‘এটা কীভাবে সম্ভব?’

ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিপুন লিখেছেন, জুল ভার্ন লিখেছিলেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ‘৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণ’। আর বাংলাদেশের রেলওয়ে যেন লিখেছে ‘এক টিকিটে দুই ছবি’র মতো ‘এক মিনিটে দুই ট্রেন গায়েব’—এক ধরনের ‘কমার্স ফিকশন’।

তবে দীর্ঘ ছুটিতে টিকিট পাওয়ার বিষয়ে তার প্রত্যাশা যে অতিরিক্ত নয়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন নিপুন। তিনি বলেন, ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময় টিকিটের চাপ বেশি থাকে এ বাস্তবতা তিনি বোঝেন। তাই পরিবার নিয়ে এসব সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তিনি টিকিট ছাড়ার সময়ের আগেই অনলাইনে বসে থাকেন। কিন্তু তার দাবি, এরপরও তিনি কখনো টিকিট পান না।

তিনি লিখেছেন, ‘হাসিনার আমলেও না, এই আমলেও না।’ এরপরই টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ‘টিকিট সিন্ডিকেট’ নিয়ে সরব হন এই নির্মাতা। আশফাক নিপুনের অভিযোগ, বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার ভাষায়, এক মিনিটে দুটি ট্রেনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ‘গিনেস বুকে’ ওঠার মতো রেকর্ড।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট রেলওয়েতে সক্রিয়। সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের প্রভাব কমেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। রেলের টিকিট ব্যবস্থাপনা ও সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে নিপুন লেখেন, সরকার সফটওয়্যার পরিবর্তন করলেও সিন্ডিকেট যেন তার ‘হার্ডওয়্যার’ পরিবর্তন করে দেয়। রেল মন্ত্রণালয়ের বর্তমান দায়িত্ব নিয়েও ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, বর্তমান রেলমন্ত্রীও এই সিন্ডিকেটের সামনে ‘শিশু’, কারণ তার বয়স এখনও সাত মাস হয়নি।

সবশেষে রেলওয়ে ও বিমানবন্দরের সিন্ডিকেট ভাঙাকে সরকারের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন নিপুন। তিনি লিখেছেন, কোনো সরকার যদি শুধু রেলওয়ে ও বিমানবন্দরের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে পারে, তাহলে তিনি সেই সরকারকে ‘সর্বকালের সেরা সরকার’ হিসেবে মেনে নেবেন।

এমনকি তার ভাষায়, সেই সরকার তাকে দিয়ে যা করাতে চাইবে, তিনি ‘বিনাবাক্যব্যয়ে’ তা করবেন। স্ট্যাটাসের শেষেও এই নির্মাতা সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন —‘পারবেন? হ্যায় হিম্মাত?’