ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচনে আরব দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও তাঁর বিরোধী জোট ৫১টি করে আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আরব দলগুলো।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে আরব-নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’ রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক সামরিক প্রধান গাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়াশার’ দলের জোট এবং নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ’ দলের নেতৃত্বাধীন জোট সমানসংখ্যক আসন পেতে পারে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে পারে। তবে তিনি বলেন, ‘এখন যে সংখ্যা দেখা যাচ্ছে, তাতে কোনো সরকারই গঠিত হতে পারে না।’ ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর দল ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অংশ ছিল।
ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিনকাস আল জাজিরাকে বলেন, আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে সরকার গঠন করা কঠিন হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণায় আইজেনকোটের মতো নেতারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর দাবিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনের দিন নেতানিয়াহু তাঁর সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা চালান। আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারদের দীর্ঘ সারির ছবি প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, ভোটের ফলাফল তাঁর বিরোধীদের পক্ষে যেতে পারে। আরব রাজনীতিবিদরা তাঁর এই প্রচারকে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বলে নিন্দা জানান।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ইসরায়েলের প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ এই নির্বাচনকে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের জন্য ‘অস্তিত্ব রক্ষার মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এবার এমন অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিকও ভোট দিয়েছেন, যাঁরা আগে নির্বাচন বর্জন করতেন।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের নেসেট এমন ১০০টিরও বেশি আইন পাস করেছে, যেগুলো ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রীয় তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা বৈষম্যের শিকার হন।
সব মিলিয়ে, বুথফেরত জরিপে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৮টি আসন ইসরায়েলের সরকার গঠনের হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে দেশটির ক্ষমতার সমীকরণ।



