ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ পোস্ট দেন রাশেদ খাঁন। সেখানে প্রসঙ্গক্রমে জামায়াত আমিরকে ধন্যবাদ দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিগ্যেস করেন জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই? নাহিদ ইসলাম এবিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটা ছাড়েনি!
তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের ভাষায় জামায়াতের আমিরের মন্তব্য এমন ছিলো, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি। এমনকি আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে কল করলে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও ২-৩ টা আসন বেশি ছাড়বো, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করিয়েন না!
জামায়াত আমিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আমি জামায়াতের সমালোচনা করলেও, জামায়াতে আমিরের এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই। সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রয়োজন এই বিষয়ে সন্দেহ লাগলে উপরিউক্ত সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ তুলতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আজকের সংবাদ সম্মেলনটা লক্ষ্য করেন, সিনিয়র কোন নেতা আসিফের পাশে নাই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট! এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলো!
প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী বলেন, দুদকের কোনো কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যায় না! সে অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলো, যেটা আমি নিজে জানি। এবিষয়ে আমি একজন উপদেষ্টাকে জানালে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেতন থেকে তো কেউ এতো টাকা দিতে পারেনা।
রাশেদ খাঁন বলেন, আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিলো অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা। আমি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম। কিন্তু বিরোধিতার কারণে, বিরোধীদলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, আমার কাছে যতোটুকু তথ্য আছে, তাতে আমি সবসময় বলে যাবো, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিল!


