বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের বাইরে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের দায়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও কর্মকর্তাদের দেওয়া শাস্তি কিছুটা শিথিল করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলায় জড়ানোর অভিযোগে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় শাস্তির মুখে পড়েন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শাস্তি পান লেয়ান্দ্রো পারদেস। স্প্যানিশ ফুটবলার গাভিকে ঘুষি মারার অভিযোগে তিনটি আক্রমণাত্মক আচরণের দায়ে তাকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৬৬ হাজার ৫০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া নাহুয়েল মলিনাকে সাত ম্যাচ, কোচ রবের্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আবেদনের পর ফিফা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পাশাপাশি ‘ক্লাস এ’ প্রীতি ম্যাচেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যাবে। ফলে খেলোয়াড়রা প্রীতি ম্যাচে শাস্তির মেয়াদ কাটানোর সুযোগ পাবেন।
ফিফার এই সিদ্ধান্তে পারদেসের নিষেধাজ্ঞার সময় অনেকটাই কমে আসতে পারে। আগামী শরতে আর্জেন্টিনা যদি ছয়টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে, তাহলে ২০২৭ সালের আগেই তার নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ শেষ হয়ে যাবে। একইভাবে মলিনার বাকি নিষেধাজ্ঞাও কমে আসবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষেই মাঠে ফিরতে পারবেন আলমাদা।
তবে ফিফার সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় এএফএ। শাস্তি আরও কমানোর জন্য ফিফার আপিল কমিটিতে আবেদন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
এদিকে টুর্নামেন্ট চলাকালীন অন্যান্য শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২ লাখ ৩৭ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী হোম ম্যাচে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন, দলীয় বিশৃঙ্খলা, সমর্থকদের বর্ণবাদী আচরণ এবং স্টেডিয়ামের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এসব অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এএফএ জানিয়েছে, ফিফার লিখিত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করবে তারা।


