আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আরসি মজুমদার মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ‘শুনতে কি পাও?’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার পাশাপাশি গুম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘জোয়ার’ প্রদর্শিত হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম। সভায় উপস্থিত গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন ও মানবাধিকারকর্মীরা গুমের বিচার ও নিখোঁজদের দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আকুল আকুতি জানান।
রাষ্ট্রীয় গুমের শিকার ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম তার বন্দিদশার স্মৃতি তুলে ধরে সবাইকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল-মুকাদ্দাসের বাবা আব্দুল হালিম ও হা. জাকের হুসাইনের ভাই মো. মতিউর রহমান কান্নাভেজা কণ্ঠে প্রিয়জনের সন্ধান বা অন্তত মরদেহের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় পাওনা হলো, আমরা আমাদের অনেক গুমের শিকার সহযোদ্ধাদের আমাদের মাঝে ফিরে পেয়েছি। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম তার বিপরীত পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। সরকারের ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাস কায়েমের মাধ্যমে মূলত পূর্বের ফ্যাসিস্ট রেজিমের বন্দোবস্ত পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে।’
ডাকসুর এজিএস মুহা: মুহিউদ্দীন খাঁন তার বক্তব্যে গুমফেরতদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন- 'সরকার আগের সিস্টেমে দেশকে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেটা আত্মঘাতী। সরকার যদি এটা অব্যাহত রাখে, তাহলে এর জবাবও জনগণ দিবে।'
ডাকসুর প্রশাসনিক ও কার্যনির্বাহী সদস্যসহ অনুষ্ঠানে গবেষক নওশীন শর্মিলা রিতু, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহা. মুহিউদ্দীন খাঁন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বক্তব্য দেন।

