...|...|...

অন্যান্য

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস আজ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৪
Shares
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেওআন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ২০২৬পালন করা হবে। দিবসটি উদযাপনে সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘের মতে, এমন শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে মানুষ নিজের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে। আলোচনা, সহযোগিতা এবং ভিন্ন মত বোঝার মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্রিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করা, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং আরও শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থিতিস্থাপক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্যময় মতামতের সমন্বয় ঘটিয়ে কীভাবেআলোচনা-ভিত্তিক গণতন্ত্রজনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ মালিকানাবোধকে জোরদার করতে পারে-তা তুলে ধরতে জাতিসংঘ সদর দফতরে মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। যৌথ আয়োজকইউনাইটেড নেশন্স ডেমোক্রেসি ফান্ডএবংইউনাইটেড নেশন্স অফিস ফর পার্টনারশিপস

অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়েনাগরিক সমাবেশ’-এর অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণ, সংলাপ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কীভাবে মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং আরও জনমুখী, জবাবদিহিমূলক কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, তা তুলে ধরা হবে।

শাসনব্যবস্থা এমন অর্থবহ সুযোগ তৈরি করতে পারে, যার মাধ্যমে মানুষ তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে। সংলাপ, সহযোগিতা এবং ভিন্নমত দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

যেভাবে শুরু আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে একটি প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেয়। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

প্রতিবছর দিবসটি পালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশের সংসদ প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা, কর্মশালা, বিতর্ক, শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন এবং নাগরিক সমাজের সাথে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের মতে, গণতন্ত্রে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে ন্যায়বিচার, শান্তি, উন্নয়ন মানবাধিকারের নিশ্চয়তায় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করে এই দিবস।

গণতন্ত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস বিশ্বের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনারও একটি সুযোগ। জাতিসংঘ বলছে, গণতন্ত্র শুধু একটি লক্ষ্য নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়াও। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সরকার, নাগরিক সমাজ সাধারণ মানুষের পূর্ণ অংশগ্রহণ সমর্থনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র বাস্তব রূপ পেতে পারে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যেক মানুষের মতামত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই মতামত রাখা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য ধারণা খোঁজা, গ্রহণ প্রকাশের অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গণতন্ত্রের সাথে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান জবাবদিহি শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, নাগরিক সমাজকে সহায়তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধান প্রণয়নে সহযোগিতা করে থাকে।

২০ বছর ধরে গণতন্ত্রে জাতিসংঘের সহায়তা

জাতিসংঘের গণতন্ত্র তহবিল দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এগিয়ে নিতে কাজ করছে। নাগরিক সমাজ, মানুষের অংশগ্রহণ এবং মানবাধিকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দিয়ে আসছে এই তহবিল।

তহবিলটির বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরা, নারী-পুরুষের সমতা, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হয়েছে। এক হাজারের বেশি উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশেষ করে যেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল বা হুমকির মুখে, সেখানে নাগরিক সমাজ, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম তরুণদের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে জাতিসংঘের এই তহবিল।