বলিউড কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের ভক্তসংখ্যা অগণিত। প্রতি রবিবার নিজের বাংলোর সামনে ভক্তদের সাথে দেখা করেন তিনি, নিজের ব্লগেও লেখেন তাদের নিয়ে। সম্প্রতি তার অসুস্থতার গুজব ছড়িয়ে পড়লে ভক্তরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, যদিও পরে অমিতাভ নিজেই জানান যে তিনি সুস্থ আছেন।
তবে কয়েক দশক আগে একবার সত্যিই মৃত্যুশয্যায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি, তখন গোটা ইন্ডাস্ট্রি তার জন্য প্রার্থনা করেছিল।
আর সে সময় তার একজন সহ-অভিনেতা প্রার্থনার পাশাপাশি নিজের বুক কেটে রক্তদানও করেছিলেন তার জন্য।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮২ সালে, ‘কুলি’ ছবির শুটিং চলাকালে। ছবির একটি মারামারির দৃশ্য শুটিং করার সময় সহ-অভিনেতা পুনীত ইসারের আঘাত ভুলবশত সরাসরি লাগে অমিতাভের পেটে।
এতে তিনি ছিটকে গিয়ে পাশের একটি টেবিলের কোণে পড়ে যান, যার ফলে তার অন্ত্রে গুরুতর আঘাত লাগে। সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং প্রায় দুই মাস (৬০ দিন) হাসপাতালে কাটাতে হয় তাকে।
নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি হিসেবে বহুবার এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন অমিতাভ।
সেই সংকটকালে গোটা চলচ্চিত্র জগৎ যখন তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছিল, তখন একজন অভিনেতা শুধু প্রার্থনাতেই থেমে থাকেননি।
অমিতাভের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র তিনি ছুটে যান কালীমন্দিরে এবং সেখানে নিজের বুক চিরে রক্ত উৎসর্গ করে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও নিজের ব্লগে এই ঘটনার কথা স্মরণ করেছেন অমিতাভ বচ্চন নিজেই।
আর এই আত্মত্যাগী অভিনেতা আর কেউ নন-তিনি বলিউডের ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ খ্যাত মিঠুন চক্রবর্তী ।
অমিতাভের সাথে তিনি ‘দো আনজানে’, ‘অগ্নিপথ’ ও ‘গঙ্গা যমুনা সরস্বতী’র মতো একাধিক সিনেমাতে কাজ করেছেন। পর্দায় তাদের জুটি যেমন দর্শকপ্রিয় ছিল, তেমনি বাস্তব জীবনেও দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।


