স্ত্রীকে মেরে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে বিদেশ পালানোর সময় রবিবার (১৯ জুলাই) ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাসেল নামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী।
এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদ নগর চৌরাস্তা এলাকার ফ্ল্যাট থেকে তার স্ত্রী আরিফার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আরিফার স্বজনরা বলছেন, আরিফা তার স্বামীকে জুয়া খেলতে বাধা দেন। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই স্ত্রীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলত। গত শুক্রবার রাতে ফের বাধা দিলে রাসেল আরিফাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মারা গেলে অন্য স্বজনদের সহায়তায় তাকে সিলিং ফ্যানের সাথে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করলে রাসেল সিঙ্গাপুর পালানোর চেষ্টা করছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলা হওয়ার পরই প্রযুক্তিগত তদন্তে রাসেলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। রবিবার দুপুরের দিকে তার অবস্থান হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় শনাক্ত হয়। এরপরই ইমিগ্রেশন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হয়। আগে থেকেই তার বিদেশযাত্রা বন্ধে আবেদন থাকায় ওই আসামি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে গেলে তিনি ধরা পড়েন। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
মামলার বাদী আরিফার বাবা মো. অহিদুজ্জামানের দাবি, অনলাইনে জুয়া খেলাতে বাধা দেওয়াতেই তার মেয়ে আরিফার ওপর নির্যাতন নেমে আসে। জামাতা রাসেল আরিফাকে মেরে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয়। এই কাজে রাসেলের পরিবারের কেউ সহায়তা করতে পারে। পুলিশ তদন্ত করলেই সব বের হবে।
আক্ষেপ করে আরেক স্বজন জানান, আরিফার সংসারে জায়ান নামে পাঁচ বছর বয়সী একটা ছেলে রয়েছে। বাবার অনলাইন জুয়ার আসক্তির জেরে শিশুটি মা হারা হলো। রাসেলের আরও মাসখানেক ছুটি ছিল। কিন্তু স্ত্রীকে মেরে সে আগেই বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, আসামি রাসেল বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিল। এর আগেই তারা ইমিগ্রেশনে তার বিদেশযাত্রা ঠেকাতে আবেদন করেন। তবে রবিবার দুপুরে ওই আসামি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সিঙ্গাপুরে পালানোর চেষ্টা করে। সে ইমিগ্রেশনে যেতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ওসি বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রাসেল অনলাইনে জুয়া খেলা ও স্ত্রীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় আপাতত আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মিললে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।


