পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনে হাফেজে কোরআনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কোরআন যারা হৃদয়ে ধারণ করেছেন, তাদের সমাজে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে পাঁচ মাসব্যাপী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহ যাদের কোরআন মুখস্থ করার তৌফিক দিয়েছেন, তারা যেন এই পবিত্র গ্রন্থের শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারেন। হাফেজদের মেহরাবের পাশাপাশি নেতৃত্বের আসনেও দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ছোটখাটো মতপার্থক্য ভুলে কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জামায়াতের আমির।
পাঁচ মাসব্যাপী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজনকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ আয়োজন বাস্তবায়নে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
প্রতিযোগিতার ১০ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিশু রিদওয়ান বিন আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার বাবা-মা ও উস্তাদকে নিজের পক্ষ থেকে ওমরাহ করানোর ঘোষণা দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরী উত্তরের জনপদের জন্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে আল্লাহ কবুল করুন এবং তাকে প্রয়োজনীয় তৌফিক দিন-এমন দোয়াও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু পুরস্কার বিতরণ নয়; বরং কুরআনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করা এবং এর শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।
তিনি বলেন, হাফেজে কুরআনরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করার দায়িত্ব পালন করবেন-এটাই তাদের প্রত্যাশা। মতপার্থক্য থাকলেও কুরআনের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন প্রতিযোগিতা সফল করতে পরিশ্রম করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পবিত্র আল-কুরআন মুসলিমদের জীবন পরিচালনার নির্দেশনা দেয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর বহু হাফেজে কুরআন তৈরি হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা বলেন, এ আয়োজন থেকে কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হচ্ছে। জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআনের নির্দেশনা প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় ঢাকার প্রায় ৮০০টি মাদরাসার আনুমানিক ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কওমি ও আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি ১০, ২০ ও ৩০ পারা-এই তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়।


