চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তানকে নিয়ে বড় পরিবার মুহাম্মদ সাদেকের। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ জোগাতে গিয়ে এখন দিশেহারা ৫৭ বছর বয়সী এই আফগান নাগরিক। অনিয়মিত আয় আর চরম দারিদ্র্যের মধ্যে প্রতিদিনই তাকে লড়তে হচ্ছে বেঁচে থাকার সংগ্রামে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার পরিবারের এই দুরবস্থার চিত্র।
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে বসবাসকারী সাদেকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চার স্ত্রী ৭০টিরও বেশি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে বেঁচে আছে ৫৮ জন। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের বয়স মাত্র তিন মাস।
সাদেক বর্তমানে একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তবে তার আয় নির্ভর করে গাড়ি বিক্রির ওপর। প্রতিটি গাড়ি বিক্রি হলে কমিশন হিসেবে পান প্রায় এক হাজার আফগানি। বিক্রি না হলে আয়ও থাকে না। ফলে এত বড় পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায়ই সংকটে পড়তে হয় তাকে।
পরিবারটির বসবাসের পরিবেশও বেশ নাজুক। মাটির তৈরি জরাজীর্ণ বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় দরজা-জানালার পরিবর্তে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে পাতলা পর্দা। জায়গার স্বল্পতায় পরিবারের সদস্যদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। রাতে একটি পাতলা কম্বল ছয় থেকে সাতজনের মধ্যে ভাগ করে ঘুমানোর ঘটনাও ঘটে।
সংসারে সাধারণত দিনে দুবার খাবার রান্না করা হয়। কিন্তু তাতেও সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবারের নিশ্চয়তা নেই। অর্থের অভাবে কোনো কোনো দিন শিশুদের না খেয়েই ঘুমাতে যেতে হয়। অনেক শিশুর পায়ে নেই জুতা। রান্নার জ্বালানি কেনার সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সদস্যরা কাগজ ও প্লাস্টিকের বর্জ্য সংগ্রহ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এত বড় পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সাদেকের ব্যক্তিগত সংগ্রামও কম নয়। নিজের সব সন্তানের নাম পর্যন্ত অনেক সময় মনে রাখতে পারেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারটির এই পরিস্থিতি আফগানিস্তানে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা এবং সীমিত আয়ে বড় পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।


