কোলাহলমুক্ত নির্জন পরিবেশে সময় কাটাতে চান? যেখানে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে, চারপাশে থাকবে সমুদ্রের গর্জন আর দিগন্তজুড়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। আধুনিক জীবন থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকার এমনই সুযোগ দিচ্ছে স্কটল্যান্ডের একটি দ্বীপ।
যুক্তরাজ্যের শেটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত হিলডাসে দ্বীপটি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড, যা প্রায় ৪ লাখ ১৪ হাজার ইউরোর সমান। তবে এই দ্বীপের মালিক হতে হলে শুধু অর্থ থাকলেই চলবে না, আধুনিক নাগরিক জীবনের নানা সুবিধা ছাড়া বাঁচতে মানিয়ে নিতে হবে।
প্রায় ১১০ হেক্টর আয়তনের দ্বীপটিতে যেতে হয় নৌকায়। উনবিংশ শতাব্দীতে এখানে ছোট একটি জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল, তবে বর্তমানে কোনো স্থায়ী জনবসতি নেই। দ্বীপে রয়েছে পাথরের তৈরি একটি ছোট বাড়ি ও একটি ছোট জেটি। নির্জনতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাখির বিচরণই দ্বীপটির প্রধান আকর্ষণ।
বাড়িটি সম্পূর্ণ অফ-গ্রিড, অর্থাৎ সেখানে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের সংযোগ নেই। আগের মালিকেরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ছোট বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন ও ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতেন। বিক্রির দায়িত্বে থাকা আবাসন এজেন্ট কেলভিন অ্যান্ডারসন জানান, নতুন ক্রেতাকে নিজের উদ্যোগেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে।
বাড়িতে রয়েছে বসার জায়গা, কঠিন জ্বালানিতে চালিত চুলা, উঁচুতে তৈরি খোলা ঘুমানোর জায়গা এবং আলাদা বাথরুম। বাথরুমে ঝরনা, হাত ধোয়ার বেসিন ও শৌচাগার আছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে চাইলে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা অনুমোদন ও সরকারি ছাড়পত্র নিতে হবে।
দ্বীপটির চারপাশে রয়েছে দুর্গম উপকূলরেখা ও দুটি মিঠাপানির হ্রদ। এখানে নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়, ঋতুভেদে যাদের উপস্থিতিতেও পরিবর্তন আসে।
করোনাকালে ক্রিস লুইস এখানে তিন মাস অবস্থান করায় হিলডাসে আলোচনায় আসে। যুক্তরাজ্যের উপকূল ধরে হেঁটে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা 'ফাইন্ডিং হিলডাসে' বইটি প্রকাশের পর দ্বীপটি আরও পরিচিতি পায়। পরে লুইসকে দ্বীপটি কিনতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাতিল হয় বলে জানিয়েছে 'শেটল্যান্ড টাইমস'।
প্রকৃতির মাঝে নির্জনে থাকার সুযোগ থাকলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্বীপটি মূলত তাদের জন্যই উপযোগী, যারা সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে চান।
সূত্র: ইউরো নিউজ।


