ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। ২০২৬ সালের পুরুষদের বিভাগে সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড। নারী বিভাগে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। পুরুষ ও নারী বিভাগের প্রধান পুরস্কার ছাড়াও তরুণ খেলোয়াড়, গোলরক্ষক, কোচ, ক্লাব এবং গোলদাতাদের বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরুষদের বিভাগে কেইন পেছনে ফেলেছেন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন কেইন। দুর্দান্ত গোলসংখ্যা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তার হাতে উঠেছে ফুটবলের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত এই ব্যক্তিগত পুরস্কার।
২৫ বছর পর ইংল্যান্ডে ফিরল পুরুষদের ব্যালন ডি’অর
কেইনের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতলেন কোনো ইংলিশ ফুটবলার। এর আগে ২০০১ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা মাইকেল ওয়েন। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের হাতে ওঠেনি এই সম্মান।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে কেইন নিজের গোল করার দক্ষতা, আক্রমণভাগে কার্যকর ভূমিকা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় ছিলেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যাও এবারের পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পুরস্কার গ্রহণের পর কেইন তার সতীর্থ, কোচ, পরিবার এবং ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকে নিজের জন্য সম্মানের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তৃতীয়বারের মতো সেরা পুতেয়াস
নারীদের বিভাগে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ব্যালন ডি’অর। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পুতেয়াস। দলটির একাধিক শিরোপা জয়ের অভিযানে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে মাঝমাঠে খেলার নিয়ন্ত্রণ, সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা তাকে আবারও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের সময় পুতেয়াস সতীর্থ, কোচ, পরিবার এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ফুটবল খেলতে আগ্রহী শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছেলে বা মেয়ে কিংবা যে জায়গা থেকেই আসুক না কেন, স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা জরুরি।
সেরা তরুণ খেলোয়াড় ইয়ামাল
পুরুষদের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল। এই বিভাগে টানা তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার জিতলেন তিনি।
অল্প বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার আক্রমণভাগে তার গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং গোলের সুযোগ তৈরির দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
তবে পুরস্কার পাওয়ার পর ইয়ামাল মনে করেন, তার সতীর্থ পাউ কুবারসি এই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। তার এই মন্তব্যও অনুষ্ঠানে আলোচনার জন্ম দেয়।
নারীদের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের ভিকি লোপেজ।
অন্য বিভাগে যারা পুরস্কার পেলেন
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে প্রধান দুই বিভাগের বাইরে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরুষদের সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন হ্যারি কেইন। নারী বিভাগে এই পুরস্কার পেয়েছেন মেক্সিকোর চার্লিন কোরাল।
সেরা পুরুষ গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের উনাই সিমন। নারী বিভাগে সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন স্পেনের কাতা কোল।
পুরুষদের সেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। নারীদের সেরা কোচের পুরস্কার পেয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ।
বর্ষসেরা পুরুষ ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস সাঁ জারমাঁ। নারী বিভাগে এই সম্মান পেয়েছে স্পেনের বার্সেলোনা।
ফুটবলের মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য সক্রেটিস পুরস্কার পেয়েছেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা। তার দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

