যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের মধ্যে ১০ বছরে ৮৫০টি এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান তৈরির চুক্তি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এ চুক্তির ঘোষণা দেয় উভয় পক্ষ। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ চুক্তি করা হয়েছে। পেন্টাগনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে এফ-৩৫ কর্মসূচির আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সম্প্রসারণ করা হবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ লাগবে।
লকহিড মার্টিনের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিম টাইকলেট বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে এফ-৩৫-এর অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
পেন্টাগনের ক্রয়বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল ডাফি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন বজায় রাখা যায়। তিনি জানান, উৎপাদনকারীদের আর্থিক প্রণোদনার সঙ্গে প্রকৃত কর্মদক্ষতা যুক্ত করার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান উৎপাদনের পাশাপাশি প্রাথমিক খুচরা যন্ত্রাংশ, ১০ বছর মেয়াদি পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের অর্ডারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পেন্টাগনের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
লকহিডের আশা, দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ধারণ ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এফ-৩৫ কর্মসূচি আগামী ১০ বছরে ৩ লাখ ১৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি মিত্র দেশের যৌথ প্রকল্প এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান। লকহিডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৩৭৫টির বেশি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। বিমানটির বিভিন্ন সংস্করণের দাম ১০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার লকহিড মার্টিন তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয়ের কথা জানিয়েছে। একই দিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫৯০ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছায়।


