...|...|...

জাতীয়

হাওরে স্যাটেলাইট হাসপাতাল ও নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রস্তাব ডেপুটি স্পিকারের

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৭
Shares
হাওরে স্যাটেলাইট হাসপাতাল ও নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রস্তাব ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: সংগৃহীত

হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপন এবং জরুরি রোগী পরিবহনে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে এ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার-২০২৬ বিজয়ী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

সাক্ষাতের শুরুতে আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি অর্জনের জন্য রুনা খানকে অভিনন্দন জানান কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এমন অর্জন পুরো জাতির জন্য গর্বের। মানবকল্যাণ ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যারা কাজ করেন, তাদের স্বীকৃতি অন্যদেরও জনসেবামূলক কাজে অনুপ্রাণিত করবে।

এ সময় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবিক কার্যক্রম এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান পরিবর্তনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রুনা খানকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনি আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ।’

আলোচনায় নিজের জেলা নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

তিনি জানান, জীবিকার প্রয়োজনে অনেক মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রিকশা চালানোসহ নানা পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। অথচ একসময় কৃষি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল হাওরাঞ্চল। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এ অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

হাওরের জলমহাল ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ডেপুটি স্পিকার। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যক্তিরা জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এতে প্রকৃত জেলেদের জীবিকা সংকুচিত হচ্ছে। জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তাদের আয়, পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বাড়বে।

শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে দুই থেকে তিন মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। যোগাযোগের অসুবিধা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যাতায়াতব্যবস্থা সহজ করা প্রয়োজন।

কায়সার কামাল বলেন, মৎস্যসম্পদ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি। হাওরকে শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দেন ডেপুটি স্পিকার।

জবাবে রুনা খান হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ ও পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান পরিবর্তনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

এ সময় নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষের কল্যাণে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ফ্রেন্ডশিপের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন রুনা খান। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাতে ফ্রেন্ডশিপের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।