...|...|...

সারাদেশ

সেতুর নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৪:৫৯
Shares
সেতুর নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার নিখোঁজের একদিন পর মারা গেছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাকে অচেতন অবস্থায় ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে চেতনানাশক কোনো পদার্থ খাইয়ে বা স্প্রে করে অচেতন অবস্থায় সেতুর নিচে ফেলে রেখে যায়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার রাত ১০টার দিকে মাওলানা জসিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার।

নিহত মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জবাজারের মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি চার কন্যাসন্তানের জনক এবং দীর্ঘদিন ধরে বরুণা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গলের ভৈরব বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি মাদ্রাসায় রয়েছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে তার অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকার খবর জানতে পারেন স্বজনেরা।

স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নির্জন এলাকায় তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাকে ভৈরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, তার শরীরে দৃশ্যমান রক্তাক্ত ক্ষত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন ছিল না।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবাদুর রহমান মোশাহিদের মাধ্যমে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু মাওলানা জসিমের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকারী যুবকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং পরে ভৈরবে যান।

খবর পেয়ে বরুণা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। হাসপাতালে গিয়ে তারা মাওলানা জসিমের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়িতেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার বলেন, শুক্রবার থেকে তার চাচা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনি মাদ্রাসায় আছেন। পরে শনিবার দুপুরে ফেসবুকে ভিডিও দেখে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন। ভৈরবের একটি হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মাওলানা জসিমের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে তিনি সেতুর নিচে অচেতন অবস্থায় পৌঁছালেন, তাকে কেউ চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করেছিল কি না এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।