সাভারের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার কামালপুরে প্রায় ১৭ একর বনভূমিতে ‘এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বাইরে থেকে প্রচারণার মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর জমির বৈধতা, পরিবেশগত প্রভাব ও বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বনভূমি ও কৃষিজমি ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশগত নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সাথে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও জমি ব্যবহারের বৈধতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বন বিভাগের জমি ব্যবহারের বৈধতা। সরকারি বনভূমি বাণিজ্যিক রিসোর্ট, পর্যটন বা ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন। ফলে প্রকল্পের আওতায় থাকা বনভূমির জমি কীভাবে এবং কোন শর্তে ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
এ ছাড়া রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের জন্য আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি কেনার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে। কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদন ছাড়া কৃষিজমিতে স্থাপনা নির্মাণ হলে তা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাভারের বিরুলিয়া ও বন বিটসংলগ্ন এলাকায় বনাঞ্চল, প্রাকৃতিক জলাশয় ও কৃষিজমি রয়েছে। সেখানে বড় পরিসরে পর্যটকের সমাগম হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের বিনিয়োগ কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ২০টি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকল্পের মোট বাজেট, লভ্যাংশ বণ্টন, বিনিয়োগকারীদের অধিকার এবং জমি ব্যবহারের আইনি কাঠামো সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
লিজ নেওয়া সরকারি বা বন বিভাগের জমির মালিকানা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ না থাকলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কোনো কারণে লিজ বাতিল বা প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
প্রকল্পটির প্রচারণায় পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের লাভবান হওয়ার কথা বলা হলেও, কৃষিজমি ও বনাঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদের অতিরিক্ত আনাগোনা, শব্দদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন ও কৃষিকাজেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এ অবস্থায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে জমির মালিকানা ও লিজের বৈধতা, সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং বিনিয়োগের আর্থিক কাঠামো স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে। এসব বিষয় যাচাই না করে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পটির উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি এবং প্রকল্পের অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রকল্প উদ্যোক্তাদের বক্তব্য নেওয়া হলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।

