...|...|...

আইন ও আদালত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের উদ্যোগ

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৫৩ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২২
Shares
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের উদ্যোগ

সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে চালানো অভিযান এবং তার পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর অতিরিক্ত আইজি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত এই মামলায় এটিই হবে প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ।

তিনি জানান, আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে আত্মগোপনে আছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, এবং ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার প্রত্যাশা করছেন তারা। পাশাপাশি, দেশের বাইরে অবস্থানরত মামলার অন্য পলাতক আসামিদেরও ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটরের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে ইন্টারপোলের নিয়মনীতি অনুসরণ করে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, পাশাপাশি এ সংক্রান্ত অগ্রগতি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখাকে অবহিত রাখতেও বলা হয়েছে। চিঠিটি আইজিপির পাশাপাশি এনসিবির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইতিমধ্যে অন্য মামলায় আটক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তালিকায় আরও আছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

এছাড়া সাংবাদিকদের মধ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।