...|...|...

সারাদেশ

সাতক্ষীরায় সার ডিলার হলেন ছাত্রদল নেতা, নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৭:৩১
Shares
সাতক্ষীরায় সার ডিলার হলেন ছাত্রদল নেতা, নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

ছবি: টাইমস টুডে

সাতক্ষীরা পৌরসভায় সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জে এম দুদায়েভ মাসুদ অর্ঘ্য। তার মালিকানাধীন ‘অর্ঘ্য ইন্টারন্যাশনাল’ নামের প্রতিষ্ঠানকে সার ডিলার হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একইসাথে নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতার নাম থাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ৬ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত চিঠিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার জন্য ‘অর্ঘ্য ইন্টারন্যাশনাল’কে সার ডিলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে জে এম দুদায়েভ মাসুদ খানের নাম ও ঠিকানা হিসেবে পলাশপোল উল্লেখ রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং সার ডিলারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির পাশে জেলা কমিটির সুপারিশক্রম-১ উল্লেখ রয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।

সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় সদর উপজেলার আগরদাঁড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। তার রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর এ নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. সাইদুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে নিয়োগপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে বিএনপির ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

তালিকা তৈরিতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা পুনরায় যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি। তার পোস্টে আওয়ামী লীগ নেতা, নেতার গাড়িচালক, একই পরিবারের দুই ভাই এবং অন্য জেলার বাসিন্দাদের ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সার ডিলার নিয়োগে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো তালিকা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু।

তিনি বলেন, ‘জেলা বিএনপি থেকে কোনো তালিকা দেওয়া হয়েছে কি না, এটা আমি জানি না। ওই সময় সাংগঠনিক কাজে জেলার বাইরে ছিলাম। জেলার যে কমিটি করা হচ্ছে, সেই কমিটি কী, সেটাও আমি জানি না। জেলা বিএনপির প্যাডে কোনো তালিকা দেওয়া হয়ে থাকলে এ বিষয়ে আহ্বায়ক সাহেব ভালো বলতে পারবেন।’

তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে দুঃখজনক। পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার বলেন, তাদের দপ্তরে যতগুলো আবেদন জমা পড়েছিল, সেগুলোর মধ্যে যেগুলো ঠিকঠাক ছিল, সবই জেলায় পাঠানো হয়েছে। এরপর জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা পর্যায় থেকে আর কিছু বলার নেই বলেও জানান তিনি।

তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।