রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ এবং পরে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
একইসাথে অবরোধের নামে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ইউপিডিএফের (প্রসীত) মদদপুষ্ট বলে পুলিশের দাবি, এমন দুটি সংগঠন সাজেকে অবরোধের ডাক দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সাজেক পর্যটন ভ্যালি থেকে নেমে আসা পর্যটকদের চলাচলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে অবরোধকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হন।
তিনি আরও বলেন, একই দিন দুপুরে অবরোধকারীদের পক্ষ নিয়ে সশস্ত্র ইউপিডিএফ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলি চালান বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বর্তমানে সাজেকের পরিস্থিতি ভালো আছে। খুব শিগগিরই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘অবরোধের নামে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মোকাদ্দেসুল মাওলাসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রাঙামাটির স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।


