ভারতের উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরির সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আরও কঠোর করেছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের দাবিতে পরিচালিত কোনো সহিংস আন্দোলনের সাথে প্রার্থীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাকে কোনোভাবেই সরকারি চাকরি দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি সরকার পতনের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও তা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া নানা বিতর্কের পরই মূলত এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, কেবল ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে কোনো চাকরিপ্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। একইভাবে, কারো নামে থানায় নিছক এফআইআর দায়ের হওয়া কিংবা পুলিশের কোনো মামলার তদন্ত চলমান থাকলেই তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
নমুনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিছক অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং সার্বিক পরিস্থিতি ও নির্ধারিত চরিত্র যাচাইয়ের মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে তবেই মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে, সরকার পরিবর্তনের মতো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কোনো প্রার্থী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহিংস কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।
এর মূল অর্থ দাঁড়াচ্ছে—কারো বিরুদ্ধে কেবল মামলা বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হওয়ার দায়ে তার আবেদন বাতিল হবে না। তবে তার গতদিনের কার্যকলাপ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে উত্তরপ্রদেশে সরাসরি কোটায় যেকোনো সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশি বা প্রশাসনিক চরিত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় সহিংস কর্মকাণ্ডের রেকর্ড সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে।


