...|...|...

লাইফস্টাইল

শাশুড়ি মানেই কি শুধু একটা সম্পর্ক, নাকি আরেকজন মা হওয়ার গল্প?

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:১৭
Shares
শাশুড়ি মানেই কি শুধু একটা সম্পর্ক, নাকি আরেকজন মা হওয়ার গল্প?

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে মানে কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, বরং দুটি ভিন্ন পরিবার, সংস্কৃতি এবং জীবনবোধের মেলবন্ধন। আর এই মেলবন্ধনের কেন্দ্রে যে সম্পর্কটি সবচেয়ে বেশি আলোচনা, কখনো সমালোচনা, আবার কখনো পরম মমতায় জড়িয়ে থাকে—তা হলো শাশুড়ি ও বউমার সম্পর্ক।

আবহমান কাল ধরে গল্প, উপন্যাস কিংবা নাটকের পর্দায় শাশুড়ি চরিত্রটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তব জীবন কি আসলেই শুধু তাই? শাশুড়ি মানেই কি কেবল একটি সামাজিক ও আইনি সম্পর্কের নাম, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরেকজন মা হয়ে ওঠার এক দীর্ঘ, মধুর গল্প?
রুপালি পর্দার ‘খলনায়িকা’ বনাম বাস্তবের আশ্রয়।

আমাদের সমাজিক মনস্তত্ত্বে শাশুড়ি শব্দটা শুনলেই অনাকাঙ্ক্ষিত এক নেতিবাচক প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু আধুনিক সময়ের বাস্তব চিত্রটা অনেকটাই বদলেছে। অনেক পরিবারেই দেখা যায়, বিয়ের পর নিজের চেনা পরিবেশ ছেড়ে আসা মেয়েটির সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হয়ে ওঠেন তার শাশুড়ি। কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান সামলানো থেকে শুরু করে সংসারের হাল ধরা—সবখানেই মায়েদের মতোই ছায়া হয়ে দাঁড়ান তারা। অসুস্থতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া কিংবা পছন্দের রান্নাটি করে খাইয়ে দেওয়ার মাঝে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না, থাকে কেবলই এক মাতৃত্বের টান।

জন্মদাত্রী মা বনাম শাশুড়ি: অমিল যেখানে স্বাভাবিক

অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, শাশুড়ি কি আসলেই নিজের জন্মদাত্রী মায়ের মতো হতে পারেন? মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, এই দুই সম্পর্কের তুলনা করাই হয়তো ভুল। জন্মদাত্রী মায়ের সাথে সন্তানের বন্ধন গড়ে ওঠে জন্ম থেকে, যেখানে কোনো শর্ত থাকে না, ভুলত্রুটিগুলো খুব সহজেই ক্ষমা পেয়ে যায়। অন্যদিকে, শাশুড়ির সাথে সম্পর্কটি গড়ে ওঠে জীবনের একটি প্রাপ্তবয়স্ক ধাপে এসে। দুটি ভিন্ন মানসিকতার মানুষের একসাথে পথচলা শুরু হয়। তাই শুরুতেই জন্মদাত্রী মায়ের মতো অন্ধ ভালোবাসা বা বোঝাপড়া আশা করাটা অবাস্তব। এখানে বিশ্বাসের ভিত গড়তে সময়, ধৈর্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রয়োজন হয়।

সম্পর্ক যখন জটিলতার আবর্তে

সব গল্পই অবশ্য মধুর হয় না। আমাদের সমাজে এখনো অনেক শাশুড়ি রয়েছেন যারা নতুন আসা মেয়েটিকে নিজের পরিবারের অংশ হিসেবে মেনে নিতে সময় নেন, কিংবা কর্তৃত্ব ধরে রাখার এক অদৃশ্য লড়াইয়ে মেতে ওঠেন।

জেনারেশন গ্যাপ বা মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে তৈরি হয় দূরত্ব। তবে এই দূরত্বের জন্য সবসময় যে এককভাবে কোনো পক্ষ দায়ী থাকে, তা কিন্তু নয়। নতুন বউয়ের পক্ষ থেকেও শাশুড়িকে শুরুতেই ‘পর’ ভেবে দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা অনেক সময় এই সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে।

একটি সুন্দর গল্পের কারিগর হতে পারেন দুজনেই

শাশুড়ি থেকে ‘মা’ হয়ে ওঠার এই রূপান্তরটি কোনো জাদুর কাঠি দিয়ে হয় না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
• শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা: নতুন বউকে বুঝতে হবে যে একজন মা তার সন্তানকে আগলে রেখেছেন এতদিন, সেখানে নিজের জায়গা করে নিতে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। ঠিক তেমনি, শাশুড়িকেও বুঝতে হবে মেয়েটি তার চেনা পৃথিবী ছেড়ে সম্পূর্ণ অচেনা এক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার যুদ্ধ করছে।

• যোগাযোগের স্পষ্টতা: ভুল বোঝাবুঝি জমিয়ে না রেখে সরাসরি এবং বিনীতভাবে কথা বলা সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করে।

• অপেক্ষা ও যত্ন: ভালোবাসা যেমন জোর করে আদায় করা যায় না, তেমনি মাতৃত্বের টানও এক দিনে তৈরি হয় না। যত্ন আর সময় পেলে একটি সাধারণ সামাজিক সম্পর্কও মায়ের চেয়ে কোনো অংশে কম হয় না।
শেষ কথা

দিনশেষে, শাশুড়ি মানেই শুধু একটা সম্পর্কের নাম নাকি আরেকজন মা হয়ে ওঠার গল্প—তার উত্তর লুকিয়ে থাকে দুই প্রজন্মের দুটি মানুষের মনের জানালায়। শাসন, আদর আর মান-অভিমানের দেয়াল পেরিয়ে যখন দুজন নারী একে অপরকে একজন মা এবং একজন মেয়ের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেন, ঠিক তখনই একটি আইনি সম্পর্ক রূপ নেয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও মধুরতম আত্মিক বন্ধনে।