আপনার হৃদযন্ত্র কি ঠিকমতো কাজ করছে? নাকি শরীরের ভেতরে এমন কোনো কিছু ঘটছে, যা আপনি বুঝতেই পারছেন না? অবাক করা বিষয় হলো, ব্যায়ামের পর হৃৎস্পন্দন কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তা থেকেই পাওয়া যেতে পারে হৃদযন্ত্রের সুস্থতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। আর এই পরীক্ষা করতে প্রয়োজন মাত্র এক মিনিট!
পরীক্ষাটির নাম হার্ট রেট রিকভারি বা এইচআরআর। সহজভাবে বললে, ব্যায়াম শেষ হওয়ার পর হৃৎস্পন্দন কত দ্রুত কমে আসে, সেটিই এখানে দেখা হয়। ব্যায়াম করলে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। কিন্তু ব্যায়াম থামানোর পর সেটি আবার কমতে শুরু করে। এই গতি হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে দিতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
কেন এই পরীক্ষাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? ১৯৯৯ সালে ২ হাজার ৪০০ মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালানো হয়। গবেষকেরা ছয় বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করেন। এতে পাওয়া যায় চমকপ্রদ ফলাফল। ব্যায়ামের পর যাদের হৃৎস্পন্দন ধীরে কমছিল, গবেষণার সময় তাদের মৃত্যুঝুঁকি ছিল প্রায় চার গুণ। অর্থাৎ, ব্যায়ামের পর হৃৎস্পন্দন কীভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তা স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয়, হৃৎস্পন্দন ধীরে কমলেই কারও মৃত্যু হবে।
কীভাবে করবেন এই পরীক্ষা? প্রথমে ব্যায়াম করার পরপরই আপনার হৃৎস্পন্দন মাপুন। এরপর এক মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার হৃৎস্পন্দন মাপুন। প্রথমবারের সংখ্যা থেকে দ্বিতীয়বারের সংখ্যা বাদ দিলেই পাওয়া যাবে হার্ট রেট রিকভারি। প্রথম মিনিটে হৃৎস্পন্দন অন্তত ১৮ বার কমাকে একটি ভালো লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, এক মিনিটে ১২ বারের কম হলে তা সম্ভাব্য মৃত্যু ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার পদ্ধতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে ফলাফল।
হৃৎস্পন্দন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কী করা যায়? নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতারের মতো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
তবে সাবধানতাও জরুরি। নতুন করে ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যায়ামের সময় বুকে ব্যথা বা চাপ, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যান। মনে রাখবেন, এক মিনিটের এই পরীক্ষা মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না। এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয় মাত্র। সেই সংকেত উপেক্ষা না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ শরীরের বিপদের সংকেত সবসময় তীব্র ব্যথা দিয়ে আসে না—কখনো কখনো তা ধরা পড়ে হৃৎস্পন্দনের সামান্য পরিবর্তনেও।

