প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন-১ এ বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। গ্রুপে র্যাংকিংয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকলেও টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যয় জানিয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাঠে গড়াচ্ছে ফিফা আসিয়ান কাপ। আর বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জাকার্তায়। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামাল বলেন, ‘অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে এবং ভালো পারফর্ম করতে আমাদের প্রত্যাশা আছে। জাকার্তায় বড় দর্শকের সামনে খেলার জন্য আমরা সত্যিই মুখিয়ে আছি।’
টুর্নামেন্টের ডিভিশন-১ এ আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’গ্রুপে বাংলাদেশের সাথে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। অন্যদিকে ‘বি’গ্রুপে খেলবে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮১তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপের অন্য তিন দলের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬ এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮ নম্বরে। অর্থাৎ র্যাংকিংয়ে তিন প্রতিপক্ষই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে।
বাস্তবতাটা মেনেই নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ। জামাল বলেন, ‘আমরা জানি, গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে নিচের র্যাংকিংয়ের দল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর আমাদের অবস্থান। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা আছে, দেশেরও প্রত্যাশা আছে। আমরা তিন বা চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি। আর ফুটবলে এরপর কী হয়, তা তো কখনোই বলা যায় না।’
সাক্ষাৎকারে নিজের অবসর নিয়েও কথা বলেছেন জামাল। এখনই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার কথা ভাবছেন না তিনি। বলেন, ‘অবশ্যই সবকিছুরই একটা শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, শরীর ভালো অবস্থায় আছে। জাতীয় দল ও বাংলাদেশের প্রতি আমার অনেক টান। অবসর নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের সাথে কথা বলেছি। তারা সবাই বলে, খেলার সময়ের মুহূর্তগুলো আরও বেশি উপভোগ করতে পারলে ভালো হতো।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে নিজের কাছে বিশেষ দায়িত্ব ও সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখেন এই মিডফিল্ডার। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ থেকে ২৩ জনের জাতীয় দলে জায়গা পাওয়াকে বড় অর্জন মনে করেন তিনি।
জামাল বলেন, ‘প্রতিবার মাঠে নামা কিংবা জাতীয় দলের সাথে থাকা আমার কাছে বিশেষ কিছু। বছরের পর বছর অনেক খেলোয়াড়কে আসতে ও চলে যেতে দেখেছি। যত বেশি সময় দলের সাথে থাকছি, তত বেশি উপভোগ করছি। কারণ আমি ফুটবল ভালোবাসি, আমার দল ও দেশকে ভালোবাসি।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি ফাইনালে খেলবে। আর দুই গ্রুপের রানার্সআপদের মধ্যে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।


