চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৩০ জনকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে ২০ জন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। আহত অবস্থায় দেশে ফিরে আসা দুই বাংলাদেশির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি সামনে এসেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহা. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আহত অবস্থায় দেশে ফিরে আসা দুই বাংলাদেশির সাথে কথা বলে মানবপাচারের এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে এসআরবি।
পরে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা জাবালে নূর নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজান এবং আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়।
মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ৩০ জনকে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাদের পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না দিয়ে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
“সেখানে তাদের ২১ দিনের একটা ট্রেনিং হয় এবং তারপর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর পরে তাদেরকে তিনটা সেগমেন্টে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়,” বলেন তিনি।
এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে তিনটি ভাগে মোতায়েন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তের জন্য একধরনের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বাংলাদেশিদের। তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হলে হামলাকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
এ ঘটনায় জাবালে নূর ছাড়াও এসআরবি ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে ব্যাটালিয়নটি।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, এই তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ৩০ জন বাংলাদেশি বিদেশে যান। তাদের মধ্যে জাবালে নূরের মালিক মিজানের মাধ্যমে ২১ জন রাশিয়ায় গিয়েছিলেন।


