রাশিয়ার ওপর নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার একটি বড় প্যাকেজ কার্যকর করা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার দুই দিন আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের লক্ষ্য ছিল রুশ কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারগুলোর একটি গোপন বহরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থের উৎস সীমিত করা।
আইনটি রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রণয়ন করেন। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে বিপুল ভোটে পাস হওয়া আইনটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধানও ছিল। তবে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণ কম এবং আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন দেশগুলোর জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এ পদক্ষেপকে ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিই ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক আলোচনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ডন বেয়ার অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কা তাঁরা আগেই করেছিলেন। মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি কংগ্রেসকে আইনটি সংশোধনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আইনটি এমনভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে রাশিয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তঃসংসদীয় সহযোগিতা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ওলেক্সান্দ্র মেরেঝকো বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ইউক্রেনকে প্রতিকূল অবস্থায় ফেলেছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে এসব সিদ্ধান্তের সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মেরেঝকো আশা প্রকাশ করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে উন্নতি হতে পারে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা আবার শুরু করা সম্ভব হবে। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্প কঠিন অংশীদার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখা ইউক্রেনের জন্য জরুরি।
এদিকে, জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য তাঁকে দায়ী করার প্রবণতাকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


