রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, মস্কোকে ঘিরে ইউরোপীয় নেতাদের অতিরিক্ত কঠোর বক্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সময় প্রকাশ্য বক্তব্যে সংযত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বার্তা অন্য ইউরোপীয় সরকারগুলোর কাছেও পৌঁছানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ব্যক্তিগত ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। ফলে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।
প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় নেতাদের কিছু বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এসব বক্তব্যে বলা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধে চাপে থাকা রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে এই বার্তা পৌঁছানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এ উদ্যোগে আর কোন কোন মার্কিন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় কী ধরনের অবস্থান নেওয়া উচিত, তা নিয়ে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, মস্কোর কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখালে তা রাশিয়ার কৌশলকেই সহায়তা করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা আতঙ্ক ছড়িয়ে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন দুর্বল করাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্য পক্ষের মত, রাশিয়ার হুমকি সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া ইউরোপীয় সরকারগুলোর দায়িত্ব। এতে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্যাগ স্বীকার এবং প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি সম্পদ বরাদ্দের বিষয়ে জনসমর্থন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার কথিত গোপন তৎপরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আরও স্পষ্ট অবস্থানের পক্ষে।
তবে রাশিয়া বরাবরই এ ধরনের গোপন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


