রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার আলোচিত মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রামিসা তার বাবা-মায়ের সাথে পল্লবীর একটি বাসায় থাকত এবং সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে ১ নম্বর আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকেও গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২১ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৫ মে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সেদিনই মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরদিনই রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেন এবং ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া রায়ে আসামি সোহেলকে ৫ লাখ এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার এই অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং টাকা পরিশোধ না করলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ উত্তরাধিকারদের হস্তান্তরের কথা বলা হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত যাবতীয় নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায় এবং দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। বর্তমানে সেই আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানির প্রক্রিয়া হাইকোর্টে শুরু হতে যাচ্ছে।


