জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে রাজধানীর নগর পরিবহনে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর পর কালশী (মিরপুর-১২) থেকে কাঁচপুর ব্রিজ রুটের নতুন ভাড়ার চার্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এই ২৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার রুটে সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ টাকা, আর সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নগর ও দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি এই রুটের নতুন ভাড়ার চার্ট প্রকাশ করে।
নতুন চার্ট অনুযায়ী, কালশী থেকে মিরপুর-১২ পর্যন্ত ২ দশমিক ২ কিলোমিটার পথের ভাড়া ১০ টাকা। মিরপুর-১০ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটারে ভাড়া ১৩ টাকা, কাজীপাড়া পর্যন্ত ৬ দশমিক ১ কিলোমিটারে ১৬ টাকা এবং শেওড়াপাড়া পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটারে ১৮ টাকা। কালশী থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১১ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথে ভাড়া ৩১ টাকা। শাহবাগ পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৭ কিলোমিটারে ৩৭ টাকা, পল্টন পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৬ কিলোমিটারে ৪২ টাকা এবং গুলিস্তান পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৬ কিলোমিটারে ৪৫ টাকা ভাড়া দিতে হবে।
এ ছাড়া টিকাটুলি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৮ কিলোমিটারে ভাড়া ৪৮ টাকা, সায়দাবাদ পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৯ কিলোমিটারে ৫১ টাকা এবং যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৯ কিলোমিটারে ৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার পথে ভাড়া ৬৭ টাকা। আর কালশী থেকে পুরো ২৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কাঁচপুর ব্রিজে যেতে যাত্রীদের গুনতে হবে ৭৮ টাকা।
নতুন চার্টে প্রতি যাত্রী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৭০ পয়সা ধরা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা ধরেই চার্টটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। তবে এই ভাড়ার হার গ্যাসচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে চার্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ভাড়া বৃদ্ধির আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া ছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং মিনিবাসের ২ টাকা ৪২ পয়সা। দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে ভাড়া ছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল।
এবার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আবারও ভাড়া সমন্বয় করা হলো। এর সঙ্গে বিভিন্ন সেতু ও সড়কের টোল যুক্ত হলে নির্দিষ্ট কিছু রুটে যাত্রীদের মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।


