...|...|...

বিনোদন

যে কারণে পরীমনির বিরুদ্ধে জারি হলো গ্রেফতারি পরোয়ানা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:১৮
Shares
যে কারণে পরীমনির বিরুদ্ধে জারি হলো গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পরীমনি আদালতে উপস্থিত হননি। এ কারণে বাদীপক্ষ তার জামিন বাতিলের আবেদন করে। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি তিনি। পরে বাদীপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে জামিন বাতিল ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত।

মামলাটি করা হয়েছিল ২০২১ সালের ৬ জুলাই। সাভারের বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে মামলাটি করেন। এতে পরীমনি ছাড়াও তার সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে মদ্যপানের পর ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় তাদের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীমনি তার কাছে একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনা মূল্যে চান। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে পরীমনি তার দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরীমনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও করেন নাসির উদ্দিন। তার দাবি, ওই ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে পরীমনি সাভার থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাল্টা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেনের দেওয়া প্রতিবেদনে পরীমনি ও জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন নেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেদিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান এই অভিনেত্রী।