...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:০৬ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৯
Shares
যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ পাবলিক স্কুল সিস্টেমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি। দেশের সবচেয়ে বড় এই স্কুল জেলার এই পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্কুলগুলো কীভাবে এআই ব্যবহারের নীতি নির্ধারণ করবে, তার রূপরেখা তৈরি করে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা এই স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম এক বছর স্থায়ী হবে এবং এর ফলে প্রায় ৬ লক্ষ শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব ফেলা ৪০ ধরনের শিক্ষামূলক টুলসের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। তবে শিক্ষকদের পাঠ পরিকল্পনা তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।

রয়টার্সের বরাতে গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, শিশুদের শেখা এবং বেড়ে ওঠার জন্য শিক্ষক ও মানবিক সম্পর্কের প্রয়োজন। তাদের সমবয়সীদের পাশাপাশি দক্ষতা বিকাশ করতে হবে, শিক্ষাবিদদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের মতো করে কঠিন সমস্যার সমাধান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, টেক ইন্ডাস্ট্রি আমাদের বিশ্বাস করাতে চায় যে এআই-চালিত প্রারম্ভিক শিক্ষা কেবল অনিবার্যই নয়, বরং প্রয়োজনীয়ও বটে। আমরা সেভাবে দেখি না।

মেয়র মামদানি জানান, এই নীতি শিক্ষার্থীদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা অধ্যয়ন করতে শহর প্রশাসন আগামী এক বছর সময় ব্যয় করবে। এছাড়া সিটির পাবলিক স্কুল ব্যবস্থা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য একটি পাইলট বা পরীক্ষামূলক কর্মসূচিও চালু করবে।

পরীক্ষা করা হতে যাওয়া টুলসগুলোর মধ্যে রয়েছে গণিতের এআই প্ল্যাটফর্ম ‘এডিয়া’, যা ধাপে ধাপে কোচিং প্রদান করবে এবং শিক্ষার্থীদের তাদের যুক্তি ব্যাখ্যা করার জন্য প্রম্পট করবে। এর ব্যবহার প্রতি সপ্তাহে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সীমিত থাকবে। ইংরেজি ভাষা শিল্প কোর্সে ‘কুইল’ নামের আরেকটি টুলস ব্যবহার করা হবে, যার ব্যবহার প্রতি সপ্তাহে ১৫ মিনিটে সীমাবদ্ধ রাখা হবে।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক রাজনৈতিক কনসালটেন্সি ‘ক্যারোল স্ট্রিট ক্যাম্পেইন্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা আদিল লেঞ্চনার আল জাজিরাকে বলেছেন, মেয়র স্কুল, অভিভাবক ও পণ্ডিতদের এই টুলসগুলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অধ্যয়ন করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এটি এমন এক ধরনের নেতৃত্ব বলে মনে হচ্ছে যা মানুষ আসলে প্রত্যাশা করছিল—কর্পোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের খেয়াল রাখা।

এই নীতিমালায় পর্দার সামনে বা স্ক্রিন-টাইমের ওপরও পর্যায়ক্রমিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিদিনের ব্যবহার ৪৫ মিনিটের কম সময়সীমায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি এই নীতিতে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবট’ বা সহচর চ্যাটবট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আল জাজিরার পক্ষ থেকে এটি কোন কোন বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য তা স্পষ্ট করার অনুরোধ জানানো হলেও সিটি হল থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।