ইসলামে জেনা বা ব্যভিচারকে অত্যন্ত মারাত্মক ও জঘন্য পাপ (কবিরা গুনাহ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলাম ব্যভিচারের ধারেকাছে যেতেও নিষেধ করে।
হাদিস শরিফে ব্যভিচারের ছয়টি ক্ষতি বা শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, যার তিনটি দুনিয়াতে এবং বাকি তিনটি পরকালের জন্য নির্ধারিত।
দুনিয়াবি ৩টি শাস্তি
হজরত হুজায়ফাতুন ইয়ামান (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘হে মুসলমানগণ, তোমরা ব্যভিচার থেকে বেঁচে থাকো, নিশ্চয়ই ব্যভিচারের ছয়টি ক্ষতি রয়েছে। তিনটি দুনিয়ায়, আর তিনটি পরকালে প্রকাশ পাবে। দুনিয়ায় যে তিনটি প্রকাশ পাবে, তা হলো ১. চেহারার উজ্জ্বলতা চলে যাবে, ২. রিজিকে সংকীর্ণতা দেখা দেবে এবং ৩. আয়ু কমে যাবে।
পরকালীন ৩টি শাস্তি
পরকালে যে তিনটি প্রকাশ পাবে, তা হলো ১. কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ক্রোধান্বিত হবেন, ২. হিসাবে কড়াকড়ি করবেন এবং ৩. দীর্ঘকাল জাহান্নামে থাকতে হবে।’ (কানজুল উম্মাল: ৫/৪৬৪)
উক্ত বর্ণনানুযায়ী, জেনাকারীদের চেহারার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়, রিজিকের বরকত থাকে না এবং আয়ু কমে যায়। পরকালে তো কঠিন শাস্তি রয়েছেই। তাই, মুমিনদের অবশ্যই জেনা ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা মুমিনের কর্তব্য।
পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে ব্যভিচারের কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘কেয়ামতের দিন তার আজাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।। তবে কেউ তওবা করলে, ঈমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে আল্লাহ এমন লোকজনের পাপরাশিকে পুণ্য দিয়ে বদলে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান: ৬৯-৭০)
জিনা করলে তওবার বিধান
এক
আপনি আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হবেন না। আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি অধ্যয়ন করুন “বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”।[সূরা যুমার, আয়াত: ৫৩]
দুই
আপনি নিষ্কলুষভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করুন। হারামের সকল পথ বন্ধ করে দিন। এই পাপে পুনরায় পতিত হওয়ার সকল উপায় উপকরণ কর্তন করুন। এছাড়া বেশি বেশি নেক কাজ করুন। কারণ নেককাজ বদকাজকে দূরীভূত করে দেয়।
তিন
আপনি যদি আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ তওবা করে নেন তখন “ব্যভিচারী” বিশেষণ হতে আপনি রেহাই পাবেন। সেক্ষেত্রে পুতপবিত্র নারীকে বিয়ে করা আপনার জন্য জায়েয হবে।
চার
আল্লাহর কাছে দোয়া করার ক্ষেত্রে মুমিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত। ‘আমার জন্য জাহান্নামের শাস্তি লাঘব করুন’ মুমিন এই দোয়া না করে বরং দোয়া করবে ‘হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের শাস্তি হতে নাজাত দিন। হে আল্লাহ, আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন’। সাথে সাথে মুমিন নেক আমল করে যাবে এবং বদ আমল হতে তওবা করে নিবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জেনা-ব্যভিচার থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। কেউ ইতোমধ্যে এই পাপে জড়িয়ে পড়লে অবিলম্বে তাওবা করার মাধ্যমে পবিত্র জীবন শুরু করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব


