...|...|...

বিনোদন

মৃত্যুর ৪ দিন পর নাসিমা খানের দাফন, জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৮
Shares
মৃত্যুর ৪ দিন পর নাসিমা খানের দাফন, জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা

অভিনেত্রী নাসিমা খান। ছবি: সংগৃহীত

চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খানের শেষ বিদায় ঘিরে উঠে এসেছে এক বেদনাদায়ক চিত্র। মৃত্যুর চার দিন পর হয়েছে তার দাফন। দুই ছেলের ফেরার অপেক্ষায় এত দিন হিমঘরে রাখা হয়েছিল তার লাশ। বড় ছেলে দেশে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি ছোট ছেলের। অন্যদিকে, চলচ্চিত্রের এই প্রবীণ অভিনেত্রীর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন না বড় কোনো তারকা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনেও (বিএফডিসি) নেওয়া হয়নি তার লাশ।

গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ইন্তেকাল করেন নাসিমা খান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে ওই কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান, অভিনেতা আরজু, অভিনেত্রীর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল না সেখানে।

নাসিমা খানের দুই ছেলে শাবাব নাসিম রহমান ও নাবিল নাছির রহমান কুশল। বড় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। অন্যদিকে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ছোট ছেলে কুশল। ছেলের সন্ধান পেতে মৃত্যুর আগেও একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

দুই ছেলের ফেরার অপেক্ষায় নাসিমা খানের লাশ চার দিন হিমঘরে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে বড় ছেলে দেশে ফিরলেও ছোট ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ছোট ছেলেকে ছাড়াই মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান বলেন, ‘নাসিমা খানের দুই ছেলের অপেক্ষায় তার মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। কিন্তু বড় ছেলে ফিরলেও দেখা মেলেনি ছোট ছেলের। এছাড়া আমাদের সিনেমার বড় কোনও তারকাও তার জানাজায় অংশ নেননি। আমি চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়মিত আপডেট জানানোর। এখন কেউ যদি নিজ থেকে না আসে তাহলে আর কী করার থাকতে পারে।’

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নাসিমা খানের। পরে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন নাসিমা খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়া এই অভিনেত্রীকে সর্বশেষ ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় দেখা যায়।

চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় অবদান রাখা এই অভিনেত্রীর শেষ বিদায়ে তার পরিবারের সদস্য ও হাতেগোনা কয়েকজন চলচ্চিত্রকর্মীর উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এনেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রবীণ শিল্পীদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধের প্রশ্ন।