শুক্রবার বা জুমার দিনটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনের গুরুত্ব ও জুমার নামাজ শুরুর প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জুমার নামাজের ঐতিহাসিক সূচনা
ইসলামের ইতিহাসে ১ম হিজরি সনে জুমার নামাজ ফরজ হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় যাওয়ার পথে কুবায় কয়েকদিন অবস্থান করেন। এরপর রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে শুক্রবার সকালে তিনি মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে বনি সালেম বিন আউফ গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছালে জোহরের ওয়াক্ত হয়। আল্লাহর রাসূল (সা.) সেখানে জোহরের পরিবর্তে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন এবং ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করেন। এটিই ইসলামের ইতিহাসের প্রথম আনুষ্ঠানিক জুমা।
পবিত্র কুরআনে জুমার নির্দেশ
জুমার নামাজের গুরুত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-জুমুআহ-এর ৯ নম্বর আয়াতে অবতীর্ণ করেছেন:
“হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।”
হাদিসের আলোতে সাপ্তাহিক ঈদ
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দিনটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আনন্দের দিন বা সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন বানিয়েছেন।”
(ইবনে মাজাহ)
অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, “সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটি সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। আর জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।” (সহীহ মুসলিম)
জুমার দিনের আমল ও শিক্ষা
জুমার দিন মুসলমানরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে, গোসল করে, সুগন্ধি মেখে মসজিদে সমবেত হন। সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে শামিল হন। এছাড়া জুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে বান্দা আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা কবুল করেন (বুখারি ও মুসলিম)। এটি কেবল ইবাদতের দিন নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মিলনমেলা।


