...|...|...

জাতীয়

মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা পাবেন কীভাবে, সরকারি খরচ কত

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১:৩৬
Shares
মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা পাবেন কীভাবে, সরকারি খরচ কত

মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা পাবেন কীভাবে। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে কর্মী পাঠানোর সব ধাপ ও সাধারণ অভিবাসন ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো স্পষ্ট নয়। খবর বাসসের।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির সরকার। এ কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যয় ছাড়াই তাদের নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মালয়েশিয়া যাওয়ার ভিসা পাবেন যেভাবে

চাকরির উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহীদের প্রথমে বৈধ নিয়োগকর্তা ও অনুমোদিত নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র, কর্মী নির্বাচন, ভিসা প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়ার ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, বাংলাদেশে কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। 

অন্যদিকে, বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ভিসা বা ই-ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করবে।

মালয়েশিয়া যেতে সরকারি খরচ কত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নতুন প্রক্রিয়ায় সবার জন্য প্রযোজ্য মোট অভিবাসন ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়। তবে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি রয়েছে। এ সুবিধা নির্দিষ্ট কর্মীদের জন্য; তাই অন্যান্য কর্মীদের কেমন খরচ পরবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

সাধারণভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিএমইটি ছাড়পত্র এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ থাকতে পারে। কোন খাতে কোন খরচ কর্মী বা নিয়োগকর্তা বহন করবেন, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগব্যবস্থা ও সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। 

মালয়েশিয়ার নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের সরকারি ব্যয় নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো এজেন্টের দেওয়া হিসাবকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

ট্যুরিস্ট ভিসার খরচ

মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে চাকরির ভিসার পরিবর্তে ভ্রমণ ভিসার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা ফি ২০ রিঙ্গিত, যা আনুমানিক ৬০০ টাকা। এর বাইরে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি ১০৫ রিঙ্গিত এবং অনুমোদিত এজেন্সির সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু ভিসা ফি দিয়ে মোট আবেদন খরচ হিসাব করা যাবে না।

ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে চাকরি করা বৈধ কর্মসংস্থানের বিকল্প নয়। কাজের জন্য যেতে হলে যথাযথ কর্মসংস্থান ও কাজের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

প্রতারণা এড়াতে যা করবেন

মালয়েশিয়ায় চাকরির আশায় কাউকে টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির অনুমোদন, চাকরির চাহিদাপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় এবং খরচের লিখিত হিসাব যাচাই করুন। বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য তাদের সরকারি ওয়েবসাইট এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা যেতে পারে।

সর্বশেষ নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে অগ্রিম টাকা দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করানো বা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনপ্রক্রিয়া, যোগ্যতা, খরচ ও সময়সীমা উল্লেখ থাকলে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী এগোনোই নিরাপদ।