মালয়েশিয়ায় অনিবন্ধিত অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রাদজি জিদিন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে ইমিগ্রেশন বিভাগের সাথে সামরিক বাহিনী মোতায়েনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
তার মতে, অনিবন্ধিত অভিবাসী ও শরণার্থীদের উপস্থিতি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
২০২৭ সালের বাজেট বিল নিয়ে সংসদে আলোচনার সময় রাদজি জিদিন বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অনেক অভিবাসী বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দেশটিতে অবস্থান করছেন, আবার কেউ কেউ ভুয়া নথি ব্যবহার করে কাজ করছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকারকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু শহরাঞ্চল নয়, শিল্পাঞ্চল, নির্মাণ এলাকা, কৃষিখামার, আবাসিক এলাকা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা কাজ করছেন। নির্মাণ, উৎপাদন, পরিষেবা, কৃষি ও গৃহস্থালি খাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে বৈধ কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, নিয়োগকর্তার প্রতারণা, পাসপোর্ট আটকে রাখা কিংবা ভিসা জটিলতার কারণে অনেক অভিবাসী অনিয়মিত অবস্থায় পড়ে যান। ফলে সম্ভাব্য অভিযানের খবরে বৈধ ও অনিবন্ধিত উভয় শ্রেণির অভিবাসীদের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার বিষয়ে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান জানিয়েছেন, নির্ধারিত ৫২০ রিঙ্গিত ফি জমা দিয়ে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে দেশে ফেরার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগের মেয়াদ ৩১ মে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।
যেসব বাংলাদেশির পাসপোর্ট নেই, মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার আহ্বান করছেন।


