মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য নতুন হামলা ঠেকাতে ইরান তথাকথিত ‘পর্কুপাইন কৌশল’ বা সজারু কৌশল অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুদিস্তেয়ানু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো—ইরানে হামলার সম্ভাব্য খরচ ও ঝুঁকি এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে প্রতিপক্ষ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বারবার হিসাব করে।
হুদিস্তেয়ানু আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে এবং নভেম্বরের শেষ নাগাদ অঞ্চলটিতে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও দুটি উভচর অবতরণকারী নৌবহর অবস্থান করতে পারে।
তাঁর মতে, একই সময়ে তিনটি বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের সামরিক চাপ আরও বাড়াবে। প্রতিটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সামরিক অভিযানের বিকল্পও বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে ২ হাজারের বেশি মেরিন সদস্য বহনকারী একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও অঞ্চলটির দিকে যাচ্ছে।
হুদিস্তেয়ানু বলেন, এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি আলোচনার ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে এর বিপরীতে ইরানও গত কয়েক মাসের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি ইরানের ‘পর্কুপাইন কৌশল’-এর কথা উল্লেখ করেন। ‘পর্কুপাইন’ বা সজারু যেমন নিজেকে আক্রমণ থেকে রক্ষায় কাঁটা ব্যবহার করে, তেমনি সামরিক পরিভাষায় এই কৌশলের লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য হামলার মূল্য এত বেশি করে তোলা, যাতে আক্রমণ করাটাই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
হুদিস্তেয়ানুর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এখন এমন সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যাতে নতুন কোনো মার্কিন সামরিক হামলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পাল্টা জবাবের আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানও প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে।


