যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য বাধ্যতামূলক টেস্টোস্টেরন স্বল্পতা স্ক্রিনিং নীতিমালা সংক্রান্ত সম্প্রতি প্রকাশিত ক্লিনিক্যাল নির্দেশনা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে পেন্টাগন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার পেন্টাগন তাদের ওয়েবসাইটে ‘স্বাস্থ্য ও মানব কর্মক্ষমতা অপ্টিমাইজেশান সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল নির্দেশনা’ প্রকাশ করেছিল। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সেই মেমো এবং মুখপাত্র শন পারনেলের একটি বিবৃতি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আপডেটের সুযোগ দেওয়ার জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া (নথি) সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তিনি আরও বলেন যে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা বহাল রয়েছে। এই নির্দেশনা প্রত্যাহারের খবরটি সবার আগে প্রকাশ করেছিল রয়টার্স।
বিস্তারিত এই ক্লিনিক্যাল নির্দেশনায় পুরুষ ও নারীদের বার্ষিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের সময় তাদের টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি স্ক্রিনিংয়ের জন্য আলাদা পথ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হরমোন ও শক্তির প্রাপ্যতা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করার লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
‘পেজ নট ফাউন্ড’ মেমো এবং বিবৃতির লিঙ্কে ক্লিক করলে পেন্টাগন এবং ডিফেন্স হেলথ এজেন্সির ওয়েবসাইটে একটি ‘পেজ নট ফাউন্ড’ (পৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি) ব্যানার দেখা যায়।
বুধবারের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হবে, যা পরবর্তীতে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা যাচাইয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে টেস্টোস্টেরন হরমোন থেরাপির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে নারীদেরও একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হবে এবং এরপর তারা হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতার অবস্থার চিকিৎসার দিকে যেতে পারেন, যা খেলাধুলায় আপেক্ষিক শক্তি ঘাটতি বা রিলেটিভ এনার্জি ডেফিসিয়েন্সি ইন স্পোর্ট-এর মতো সমস্যার রূপ নিতে পারে। আর টেস্টোস্টেরন হরমোন থেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কেবল হাইপোঅ্যাক্টিভ সেক্সুয়াল ডিজায়ার ডিসঅর্ডারের জন্য, যা কম যৌন আগ্রহের একটি সংকটজনক স্তর দ্বারা চিহ্নিত।
টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের প্রচার চালিয়ে যাওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত জুলাই মাসে এই স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ধরনের নীতির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামা সময়ে টেস্টোস্টেরনের চিকিৎসা ব্যবহার নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছে।
চিকিৎসকদের উদ্বেগ চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ব্যাপকভিত্তিক টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার কারণে অপ্রয়োজনীয় বা সম্ভাব্য ক্ষতিকর চিকিৎসা বেড়ে যেতে পারে। তাদের মতে, সামরিক কর্মীদের মধ্যে কম টেস্টোস্টেরনের জন্য সর্বজনীন স্ক্রিনিং যে মার্কিন যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করবে, তার খুব বেশি প্রমাণ নেই।
আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা এন্ডোক্রাইন সোসাইটি—কোনোটিই কম টেস্টোস্টেরনের জন্য রুটিন স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করে না।
ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ যৌন ও প্রজনন ওষুধ বিশেষজ্ঞ ড. হেলেন বার্নি জানান যে তিনি এই স্ক্রিনিং প্রোগ্রামটির পক্ষে, কারণ এটি উল্লেখযোগ্য অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত পুরুষদের চিহ্নিত করতে পারে। পেন্টাগন বুধবার যে নির্দেশনা জারি করেছিল এবং পরবর্তীতে তা সরিয়ে নেয়, সে বিষয়ে তিনি বলেন যে তিনি আনন্দিত যে এতে পুনরাবৃত্তি পরীক্ষা, পরিবর্তনযোগ্য কারণগুলোর মূল্যায়ন এবং সেই কারণগুলোর চিকিৎসা এবং সেই সঙ্গে ফার্টিলিটি কাউন্সেলিং বা প্রজনন পরামর্শের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইন্টারনাল মেডিসিন ফিজিশিয়ান এবং আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ানসের সাবেক সভাপতি ড. জেসন গোল্ডম্যান বলেছেন যে, যখন শরীরের পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ার মতো অবস্থাগুলোর জন্য মানুষ যথাযথভাবে পরীক্ষা করে, তখন টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন দরকারী হয়।
তবে গোল্ডম্যান সতর্ক করে বলেন যে এতে অতিরিক্ত চিকিৎসা এবং ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। তিনি জানান, টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন স্লিপ অ্যাপনিয়া বা নিদ্রাহীনতার মতো অবস্থাকে আরও খারাপ করতে পারে, লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়াতে পারে, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং অনির্ণীত প্রোস্টেট ক্যানসারকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, সামরিক সদস্যদের ব্যাপকভিত্তিক স্ক্রিনিং কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
গোল্ডম্যান বলেন, টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলেই আপনি বেশি পুরুষালি, বেশি শক্তিশালী বা আরও বেশি শক্তপোক্ত ব্যক্তি হয়ে উঠবেন না। বিষয়টি এভাবে কাজ করে না। এটি সার্বিকভাবেই একটি খারাপ নীতি।


