মাদ্রাসায় শিশুদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগের ঘটনায় আলেমদের একাংশের প্রতিবাদী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। একটি শিশুকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষককে চড় মারার প্রতিবাদে আলেমদের একটি অংশের মানববন্ধন ও বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি জানতে চান, মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তাদের প্রতিবাদ কোথায় থাকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
বক্তব্যে তাহেরী বলেন, একটি শিশুকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষককে চড় মারার পর আলেমদের একটি অংশ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং মানববন্ধন করছেন। অথচ মাদ্রাসায় শিশুদের বলাৎকারের ঘটনা ঘটলে তাদের প্রতিবাদ দেখা যায় না বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শিশুদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়ে তাহেরী বলেন, ছোট শিশুদের চুমু দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় প্রতিবাদকারীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তাহেরী বলেন, তারা শিশুকে চুমু দেওয়াকে আদর করার অংশ এবং সুন্নত হিসেবে উল্লেখ করছেন। একই সাথে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা।
এর জবাবে তাহেরী প্রশ্ন তোলেন, মাদ্রাসার শিশুরা ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় এসব ব্যক্তির প্রতিবাদ কোথায় থাকে? মসজিদের ইমাম রইছ উদ্দিনকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায়ও প্রতিবাদকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের একাংশকে ‘দালাল মৌলভি’ বলে সমালোচনা করেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

