টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আল আমিনকে গণধোলাই দিয়েছে কয়েকজন ক্ষিপ্ত অভিভাবক। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন ও অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে একটি ভবনে মারকাজুল উম্মাহ্ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে এক শিক্ষার্থী (১০) ভর্তি হয়। আল আমিন ওই শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ডেকে নেন। এক পর্যায়ে কৌশলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মারবে বলে হুমকী দেন ওই শিক্ষক। এর একদিন পর তিনি শিশুটিকে আবারও বলাৎকার করেন। এভাবে প্রায় তিন মাস চলতে থাকে।
এরই মধ্যে শিশুটির মলদ্বার ও পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। ব্যথার কথা শিশুটি তার মাকে জানায়। তবে মেরে ফেলার হুমকির ভয়ে প্রকৃত ঘটনা সে মায়ের কাছে লুকিয়ে রাখে। শিশুটির মা তাকে বাড়িতে নিয়ে প্রথমে মির্জাপুরের জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে গ্যাস্টোলিভারের চিকিৎসা দেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথার ওষুধ খেয়ে শিশুটি কিছুটা সুস্থ হলে মাদ্রাসায় রেখে যান। এরপর সে আবারও ব্যথা অনুভব করলে ঢাকাসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। কিছুটা সুস্থ হলে তিনি পুনরায় তাকে মাদ্রাসা রেখে যান। সর্বশেষ বাচ্চাটি এক সপ্তাহ আগে তার মাকে মুঠোফোনে কল করে মাদ্রাসা এসে নিয়ে যেতে বলে।
শিশুটির মা জানান, হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষার পর গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসকের সাথে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার ছেলেকে এরকম করছে কোন সময়ই কিছু মনে হয় নাই। আমি বলি, মুরুব্বিরা বলে রক্ত আমাশয় হয় সেজন্য কিছু মনে করি নাই। সর্বশেষ ডাক্তার অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমাকে বলেছেন, ছেলেরে তাড়াতাড়ি ওই মাদ্রাসা থেকে সরান না হইলে বাঁচাতে পারবেন না। তিনি ঘটনার বিচার চান।
এদিকে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে কথা বলতে ও অধ্যক্ষকে জানাতে ওই শিশুটির মা ও নানা মাদ্রাসায় আসেন। এ সময় অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ সময় পাশে থাকা অভিভাবকেরাও বিষয়টি জানতে পারেন। একই সময় অভিযুক্ত আল আমিন এগিয়ে এসে তিনি পাশে থাকা কয়েকজন অভিভাবকের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় কয়েকজন অভিভাবক ক্ষিপ্ত হয়ে আল আমিনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত আল আমিন ও অধ্যক্ষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিভাবক নাজিম উদ্দিন ও স্থানীয় আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম জানান, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় অধ্যক্ষ অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার গেইট আটকে দিতে বলেন। তিনি তাঁদের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। অধ্যক্ষ তাঁদের মেরে ফেলারও নির্দেশ দেন। খবর পেয়ে আরও অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে আসলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করবেন। ওই মামলায় আল আমিনকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।


