কুমিল্লার দেবিদ্বারে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে ছাত্রদল নেতাসহ দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে আরও চার যুবক বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত শুক্রবার দেবিদ্বার পৌরসভার গুনাইঘর উত্তরপাড়ার ধান্নারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও ধান্নারপাড় ভূঁইয়া বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. সালাউদ্দিন (৩২) এবং দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের হাপুড়খাড়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে মো. বাসার খান (৩০)।
এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন গুনাইঘর ধান্নারপাড় গ্রামের আতিক (৩২), শাহীন শাহ (২৮), মোহাম্মদ নাঈম (২৮) এবং উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের আরও এক যুবক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর সালাউদ্দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘরের ভেতর তার বমি করার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন শনিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, বাসার খান তার মামার বাড়িতে মামাতো ভাই নাঈম ও বন্ধুদের সাথে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে স্বজনেরা তাকে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। দুই যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মৃত্যুর ঘটনা সত্য। তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। দাফনের পর পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত থানা-পুলিশ বলতে পারবে।

