প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জের সময় অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া, অস্বাভাবিক বিল, হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা ট্যারিফ পরিবর্তনের পর দীর্ঘ টোকেন পাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)।
গ্রাহকদের সচেতন করতে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটারে কাটা অর্থের বেশির ভাগই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বয় হয়।
ডিমান্ড চার্জ একসাথে কাটার কারণ
ডিপিডিসি জানিয়েছে, অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে প্রতি মাসে একবার ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয়। কোনো গ্রাহক এক বা একাধিক মাস মিটার রিচার্জ না করলে পরবর্তী রিচার্জের সময় আগের বকেয়া মাসগুলোর ডিমান্ড চার্জ একসাথে কেটে নেওয়া হয়।
উদাহরণ দিয়ে সংস্থাটি জানায়, ‘এলটি-আবাসিক’ শ্রেণির কোনো গ্রাহকের অনুমোদিত লোড ২ কিলোওয়াট হলে এবং তিনি টানা তিন মাস রিচার্জ না করলে, প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা হারে তিন মাসের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ২৫২ টাকা কাটা হতে পারে।
ডিপিডিসি জানিয়েছে, একই নিয়ম পোস্টপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
মিটার ভাড়া নিয়ে যা জানাল ডিপিডিসি
নিজস্ব অর্থে কেনা ও স্থাপন করা প্রিপেইড মিটারের জন্য কোনো ভাড়া দিতে হয় না। তবে ডিপিডিসির সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে মিটার ভাড়া কাটা হয়।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা।
গ্রাহক নিজ খরচে নতুন মিটার স্থাপন করলে বা নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় নিজে মিটার কিনলে ওই মিটারের জন্য কোনো ভাড়া দিতে হবে না।
রিচার্জে ৫ শতাংশ ভ্যাট
ডিপিডিসি জানিয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিলের ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য। প্রিপেইড মিটার রিচার্জের সময় মোট রিচার্জ অর্থের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের টোকেন কেন আসে?
ট্যারিফ বা বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের পর প্রথমবার রিচার্জে অনেক গ্রাহক দীর্ঘ টোকেন পাওয়ায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ডিপিডিসি জানিয়েছে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন মূল্যহার মিটারে সক্রিয় করার জন্য ট্যারিফ পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জে ২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের টোকেন তৈরি হয়। পরবর্তী রিচার্জে আবার স্বাভাবিক ২০ ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করা যাবে।
দীর্ঘ টোকেনের ঝামেলা কমাতে ডিপিডিসি ধাপে ধাপে মিটারগুলোকে অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় আনছে। বর্তমানে এএমআই (AMI) প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে ম্যানুয়ালি টোকেন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
‘ভূতুড়ে বিল’ কাটার সুযোগ নেই: ডিপিডিসি
প্রিপেইড মিটারে প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত বিল বা কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ কাটার কোনো কারিগরি সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে ডিপিডিসি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যহার অনুযায়ী ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিট হিসাব করে মিটার থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়।
তবে কমন নিউট্রালজনিত ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলিং হতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা।
ছুটির দিন ও রাতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়কে ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সময়ে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। মিটার নেগেটিভ ব্যালেন্সে চলতে থাকে এবং পরবর্তী রিচার্জের সময় বকেয়া অর্থ সমন্বয় করা হয়।
এ ছাড়া ব্যালেন্স শেষ হলে গ্রাহক ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স’ ব্যবহার করে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ চালু রাখতে পারেন।
সমস্যায় যোগাযোগের পরামর্শ
প্রিপেইড মিটারে অস্বাভাবিক টাকা কাটা, বিলিংয়ে অসঙ্গতি, কারিগরি সমস্যা বা হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যায় দ্রুত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছে ডিপিডিসি।
গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্র, অভিযোগ কেন্দ্র অথবা ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
অভিযোগের সময় গ্রাহক নম্বর ও মিটার নম্বর দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

