...|...|...

সারাদেশ

বিয়ের মাত্র ২৩ দিন পর ড্রাইভারের সাথে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:১৭
Shares
বিয়ের মাত্র ২৩ দিন পর ড্রাইভারের সাথে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী

বিএনপি নেতা সুজন মিয়া ও তার স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে বিএনপি নেতার স্ত্রী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেলান্দহ পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচন ও ওই নববধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নববধূকেও গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার এমদাদুল হক অরচনের বয়স ৪৫ বছর। তিনি মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই নববধূর কথিত মামা হিসেবে পরিচিত। আর ভুক্তভোগী সুজন মিয়া ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকার মৃত ময়ুর আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুজন মিয়ার সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি সোনার আংটি, একটি চেইন, একজোড়া বালা ও একজোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার দেন সুজন। এসব অলংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা।

সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অরচন তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন সেখানে যান। এ সময় তিনি সুজনের স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। সুজনের মা ছেলে বাড়িতে ফেরার পর যাওয়ার পরামর্শ দিলেও তারা সেখান থেকে চলে যান।

পরে ওই রাতে স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পান সুজন। পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েও তার স্ত্রীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজি করে অরচনের সাথে তার চলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সুজন। পরে প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় অরচনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নববধূকেও গ্রেফতার করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, বিয়ের মাত্র ২২ দিনের মাথায় সে আমার সাথে এমনটা করবে, তা কল্পনাও করিনি। কত আশা নিয়ে তাকে ঘরে এনেছিলাম। অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, কখনো ভাবিনি। বিয়ের সময় তাকে স্বর্ণালংকারও দিয়েছিলাম। এখন সবকিছু মিলিয়ে আমি ভেঙে পড়েছি।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন ও নববধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে।