মানবজীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি এবং বংশবৃদ্ধির এক পবিত্র অনুঘটক হলো পবিত্র বিবাহ বন্ধন। এটি কেবল দুটি মানুষের সামাজিক বা আইনি চুক্তি নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের এক অপূর্ব ইবাদত ও ইসলামি মাধ্যম। তবে বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা শুধু বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট চুক্তিতে বিয়ে করার প্রবণতা দেখা যায়, যাকে প্রচলিত ভাষায় ‘কন্টাক্ট ম্যারেজ’ বলা হয়।
শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়ের কোনো বৈধতা রয়েছে কি না-তা নিয়ে ইসলামি পরিমণ্ডলে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
সম্প্রতি একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এর শরিয়তগত বিধান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অনেকে কেবল লন্ড বা অন্য কোনো দেশে যাওয়ার জন্য অভিনয়ের আশ্রয় নেন। বাস্তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন, কেবল কাগজে-কলমে এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন। মূলত বর্ডার ক্রস ও ইমিগ্রেশন পাস করার পর যার যার মতো আলাদা হয়ে যান। এটিকে বিয়ে বলা চলে না, এটি মূলত বিয়ের নামে একধরনের তামাশা, যা সম্পূর্ণই নাজায়েজ ও হারাম কাজ।
বিয়ে কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট শরিয়তগত বাধ্যবাধকতা। এ প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে যদি প্রস্তাব ও সম্মতি এবং দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে থাকে, তবে বাহ্যিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যায়। এরপরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উভয়পক্ষের ওপর সমস্ত হক ও পাওনা পরস্পরের প্রতি প্রযোজ্য হয়।
কিন্তু এই সম্পর্ককে যদি নিছক নাটক বানানো হয়, নিয়মতান্ত্রিকভাবে ডিভোর্স বা তালাক সম্পন্ন না করেই অন্যত্র বিয়ে করা হয়, তবে তা কস্মিনকালেও জায়েজ হবে না। চুক্তি অনুযায়ী স্ত্রীর অধিকার আদায় না করার কারণে পুরুষকে আল্লাহর দরবারে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। আর যদি বিয়ের প্রারম্ভেই এ ধরনের তালাকের কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা মানসিকতা থাকে, তবে তা স্পষ্টতই কবিরা গুনাহ এবং এক মারাত্মক অপরাধ।
ইসলাম ধর্মে বিবাহিত জীবনের পবিত্রতা ও গুরুত্ব অপরিসীম। অহেতুক বা স্বার্থ হাসিলের জন্য পবিত্র এই বন্ধনকে খেলো না করার তাগিদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
‘বিয়ে হলো আমার সুন্নত (আদর্শ)। সুতরাং যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬)
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বার্থের মোহে বা শুধু ভিসা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ভাড়ায় বা চুক্তিতে এই পবিত্র বন্ধনকে বিকৃত করা কেবল শরিয়তবিরোধীই নয়, বরং এটি পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলাকেও মারাত্মকভাবে ধ্বংস করে।



